প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৃত্যুর পরও ৯৫ বছর বয়সী আব্দুর রবের জন্য শান্তি আসেনি। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে তার সন্তানরা বাবার জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদান করেন। এ নিয়ে দিনভর বিরোধ ও মীমাংসার চেষ্টা চলতে থাকে।
অবশেষে স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে, মৃত্যুর প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানাজা শেষে আব্দুর রবের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এই ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রব ১০ সন্তানের জনক ছিলেন এবং তিনি ২০ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টার দিকে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে মারা যান। পরদিন বুধবার সকালে তার জানাজার প্রস্তুতি নেয়ার সময় ছোট ছেলে সাইদুর রহমান ও ছয় মেয়ে বাধা দেন। তাদের অভিযোগ, বাবার জীবদ্দশায় কৌশলে তার সহায়-সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন মেজ ছেলে সালাউদ্দিন ও সেজ ছেলে আলাউদ্দিন। ভাই-বোনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই বিরোধ। এই বিরোধের ফলস্বরূপ বাবার জানাজা ও দাফন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে কয়েকজন সন্তান বাবার জানাজা ও দাফনে বাধা দেন। বিষয়টির সমাধানে সকাল থেকে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ সময়েও কোনো সমাধান না হওয়ায় মরদেহ দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। দিনভর নানা নাটকীয়তার পর স্থানীয় লোকজন, নেতা ও পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে পরিস্থিতির সমাধান হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানাজা শেষে আব্দুর রবকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় সমাজপতি মো. সামছুল হক বলেন, অভিযোগ রয়েছে যে, দুই ভাই আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিন তাদের বাবার কাছ থেকে সব সম্পত্তি কাউকে না জানিয়ে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। প্রায় ছয় মাস আগে ছোট ছেলে সাইদুর রহমান বাড়িতে বিদ্যুতের মিটার নামানোর জন্য খতিয়ান ও দাগ নম্বরের প্রয়োজন হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর ভাই-বোনদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের মীমাংসায় স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত দুই ভাই সেখানে উপস্থিত হননি।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমদ জানান, বুধবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সরসপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয় সমাজপতি, নেতা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সবার সম্মতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন