প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অনার বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কানেক্টেড প্রযুক্তি নির্ভর একটি বৃহৎ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা স্মার্টফোনের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটি স্মার্টফোনের পাশাপাশি ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইস, ল্যাপটপ, টিভি এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসগুলোকে একত্রিত করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করার প্রযুক্তি নিয়ে এগোচ্ছে।
ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে সোমবার আয়োজিত ‘অনার কানেক্ট’ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো অনারের রোবট ফোন প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নতুন ব্র্যান্ড লোগোও উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অনারের নতুন স্লোগান ‘ডেয়ার টু বি’-এর ধারণা উপস্থাপন করা হয়। প্রযুক্তিকে মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সহজভাবে যুক্ত করা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারকে সহজতর করাই এই স্লোগানের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়।
অনার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জিটিএম পরিচালক লিও পেই মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশে অনার স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন ফোন তাদের বিস্তৃত স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেমের একটি অংশ।" তিনি বলেন, ফোন, ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইস, ল্যাপটপ ও টিভিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে এগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে কাজ করতে পারে।
অনার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ল্যাং গুও জানান, "বাংলাদেশের মানুষ এমন প্রযুক্তি চায়, যা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে যায়।" তিনি আরও বলেন, রোবট ফোনও অনারের বৃহৎ ইকোসিস্টেমের একটি অংশ। সামনে আরও নতুন প্রযুক্তি ও ডিভাইস বাজারে আনা হবে।
অনুষ্ঠানে অনার ম্যাজিক৯ প্রো আনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফোনটি বাংলাদেশে পাওয়া যাবে। চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে উন্মোচিত এই ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনটি সিনেমা ক্যামেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যারির সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়হান রাফি এবং সিনেমাটোগ্রাফার সুমন সরকার উপস্থিত ছিলেন। তারা অ্যারি প্রযুক্তি নিয়ে একটি বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন। রোবট ফোন নিয়ে রায়হান রাফি বলেন, "ডিভাইসটি দিয়ে পরীক্ষামূলক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত ফিল্ম ক্যামেরা আকারে বড় হওয়ায় অনেক পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় শট নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। রোবট ফোনের ক্যামেরা যেকোনো জায়গায় রেখে শুট করা এবং ক্যামেরার স্বয়ংক্রিয় মুভমেন্টের সুবিধা কাজে লাগানো যেতে পারে।
স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, অনার বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে ডিভাইস উৎপাদন করছে। তিনি দাবি করেন, উৎপাদনের মান বিশ্বের সেরা কারখানাগুলোর সমমানের। ধাপে ধাপে অনারের অন্যান্য ডিভাইসও বাংলাদেশের বাজারে আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, "১৯৯৮ সাল থেকে পার্টনারদের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছে তাদের প্রতিষ্ঠান।" গ্রাহকদের পরামর্শ ও সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অনার বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ডিরেক্টর ও হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেটিং সৈয়দ মো. বদরুল আরেফিনও বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ এক্সপেরিয়েন্স জোনে অনারের বিভিন্ন ইকোসিস্টেম পণ্য প্রদর্শন করা হয়। রোবট ফোনের পাশাপাশি নতুন ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ম্যাজিক ভি৬, বিভিন্ন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ইয়ারবাড, হেডফোন ও স্মার্টওয়াচও প্রদর্শিত হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশে ল্যাপটপ ও টিভি বাজারে বড় পরিসরে প্রবেশের প্রস্তুতির কথাও জানায় অনার। ল্যাপটপে একাধিক সিরিজের পণ্যের পাশাপাশি টিভি বিভাগে ৩২ থেকে ১০০ ইঞ্চি পর্যন্ত বিভিন্ন মডেল এবং আধুনিক ডিসপ্লে প্রযুক্তি আনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন