প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, চীন ও পাকিস্তান বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে।
মন্ত্রী জানান, চীন বাংলাদেশি চিকিৎসকদের ফেলোশিপে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। চীনা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবেন এবং প্রয়োজন হলে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চীনেও নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের ১৩৫ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ২৫০ শয্যার অবকাঠামো থাকলেও ১৩৫ শয্যা চালু ছিল। বাকি শয্যাগুলো চালুর উদ্যোগে বিশেষায়িত এই প্রতিষ্ঠানে রোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বাংলাদেশি চিকিৎসকদের ফেলোশিপে নেওয়ার পাশাপাশি চীনের হাসপাতালগুলোতে তাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। চীনা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসে চিকিৎসকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেবেন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চীনে নিয়ে গিয়েও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
পাকিস্তানের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানি চিকিৎসকরাও বাংলাদেশে এসে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন। দুই দেশের এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
থ্যালাসেমিয়া ও এইচআইভিসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু রোগীর চিকিৎসা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; রোগ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করাও চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষকে রোগের কারণ, প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পর্কে জানাতে হবে।
বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে তাদের সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়ের রক্ত পরীক্ষা করে থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না, তা জেনে নেওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ দম্পতি শনাক্ত করা গেলে জেনেটিক পরামর্শের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্নতা ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। অভিভাবকদের সন্তানদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি চিকিৎসকেরা কর্মস্থল ও নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারেন। এইচআইভি প্রতিরোধেও সচেতনতা, পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সঙ্গে মানুষের সংযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন