প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাই ও আগস্ট মাসের আমদানি বিল আকু (এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন) পরিশোধ করেছে। এর ফলে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন ১৩৯ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ আকুকে পরিশোধ করা হয়েছে। এর আগে, রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিশোধের অর্থ জমা রেখেছিল।আকুর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে লেনদেনের জন্য সাধারণত দুই মাস পরপর এ ধরনের বিল পরিশোধ করতে হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা সবসময় প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য নিট রিজার্ভ ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে।
প্রতি মাসে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করে এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক।
এর আগে, গত ৭ জুলাই আকুর মে-জুন মেয়াদের ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার এবং মোট হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।
প্রসঙ্গত, আকু হলো একটি আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে লেনদেনের দায় পরিশোধ করা হয়। ইরানের রাজধানী তেহরানে আকুর সদর দপ্তর অবস্থিত। এই ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানির অর্থ পরিশোধ করে। তবে, বর্তমানে আকুর সদস্যপদ নেই শ্রীলঙ্কার। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমদানি ব্যয় পরিশোধের বিভিন্ন শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির আকু সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের (এসক্যাপ) ভৌগোলিক সীমারেখায় অবস্থিত সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য আকুর সদস্যপদ উন্মুক্ত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন