প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই তেঁতুলিয়া নদীতে ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। এ কারণে পটুয়াখালীর গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা গ্রামের বাসিন্দা বারেক রাঢ়ীর মধ্যে বসতভিটা হারানোর ভয় ক্রমাগত ছায়া ফেলছে। শনিবার সকালে তার বাড়ির পাশে নদীর পাড়ে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনাটি নজর কাড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ। প্রতিবারই নদী ভাঙনের সম্মুখীন হচ্ছে এলাকাবাসী। তারা বলেন, ‘প্রতিবছরই বেড়িবাঁধের কাজ হয়, কিন্তু বর্ষা আসলেই ভাঙে, বাড়িঘরও ভেঙে যায়। মৌসুম জুড়ে মনের ভেতর এক আতঙ্ক বিরাজ করে, কখন বসতভিটা নদীতে হারিয়ে যাবে। সাথে চলে যাবে বাপ-দাদার কবরও।’ বারেক রাঢ়ী বলেন, ‘দশ বছরে চারবার বাড়ি করেছি। বর্তমানে যে বাড়িতে আছি, সেটাও হয়তো থাকবে না। সব বিষয় আমার জন্য সহ্য হয়ে গেছে। তবে মারা যাওয়ার আগে আর নতুন বাড়ি করার সামর্থ্য নেই। প্রাণশক্তি এবং অর্থ কোনোটাই নেই।’ শুধু বারেক রাঢ়ী নয়, বরং তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে ভীতিতে দিন কাটাচ্ছে ৫০০ পরিবারের মানুষ। নদীর করাল গ্রাসের সৃষ্টি করেছে বহু বাড়িঘর ও কবরস্থানও ভেঙে যাচ্ছে, ফলে জীবনের শেষ সময়ে এসে হতাশায় রয়েছে বারেকের মতো অনেকেই। বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্ক চলছে রতনদী তালতলী ইউনিয়নের নিজহাওলা, বন্যাতলী স্লুইসের দুই পাশের এবং গ্রামর্দনের চার গ্রামে। এই পরিস্থিতিতে ঢেউয়ের তীব্রতায় ওই এলাকার বেড়িবাঁধের পাড় ভেঙে যাচ্ছে। বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশে অন্তত ৫০০ মিটার বেড়িবাঁধ ধসে পড়েছে। রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশে বসবাসকারী শাহজাহান হাওলাদার জানান, ‘নদীভাঙনে আমরা সব হারিয়েছি। চারবার বাড়ি করেও সবকিছু হারিয়েছি। এখন কোনোরকমে জীবনযাপন করছি। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরও প্রায় সাড়ে আট একর জমি নদীতে চলে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন আর এসব বেড়িবাঁধ দিয়ে কিছুই হবে না; আমাদের টেকসই বাঁধের প্রয়োজন। ব্লক দিয়ে বাঁধ দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। বারবার ভাঙা এবং নতুন করে গড়ার খেলায় আমি বর্তমানে নিঃস্ব।’ একই ইউনিয়নের গ্রামর্দন এলাকার ফরিদ হাওলাদার বলেন, ‘আমার ঘরসহ সবকিছুই তেঁতুলিয়া নদী নিয়ে গেছে। কয়েক দফা ভাঙনের পর ১২ বছর পূর্বে পরিবারসহ কাটাখালী শ্বশুরবাড়িতে চলে যাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিজের চোখে ২০০ থেকে আড়াই শ বাড়ি নদীতে বিলীন হতে দেখেছি। নদীর উত্তাল ঢেউয়ে বেড়িবাঁধের পাড় প্রতিদিন ভেঙে যাচ্ছে। এখন রাস্তাও ভেঙে যাচ্ছে।’ নিজহাওলা গ্রামের সত্তার রাঢ়ীর স্ত্রী লুৎফা বেগম জানান, ‘আমার বাপের বাড়ি একই ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামে। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে আছি। এক সময় যে বাড়িতে রান্না-বান্না করতাম, সেটিও বহুদিন আগেই নদীগর্ভে চলে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী এক সময় এখানে কৃষি কাজ করতেন। এখন সবই স্মৃতি। নদীর ভাঙনে ৫০ একরের ওপর জমি নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে আমরা নিঃস্ব।’ রতনদী তালতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খান বলেন, ‘রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৮, ৯ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাতলী অংশের বেড়িবাঁধ ভাঙনের কবলে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গ্রামর্দন এলাকার অবস্থা একই।’ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রতিবছর ভাঙনে নদীরগর্ভে বিলীন হচ্ছে বেড়িবাঁধ, সড়ক, কৃষিজমি ও ঘরবাড়ি। ভাঙন প্রতিরোধ ও ওয়াপদা মেরামত করা না হলে বন্যাতলী, নিজহাওলা, টাইট্টাবুনিয়া, ভাইয়ার হাওলা, পাতাবুনিয়া, গ্রামর্দ্দন এলাকার মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। নদীভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আমি আশা করে আছি।’ গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুর হক বলেন, ‘ইতোমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা করেছি। তারা জানিয়েছেন, রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী লঞ্চঘাটের উত্তর পাশে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। বর্ষা মৌসুমের তীব্রতার আগেই কাজ শুরু করবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন