প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাত্র আট মাসের নিরলস প্রচেষ্টায়, নিজ হাতে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে আলাদা একটি কীর্তি সম্পন্ন করেছেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ. ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, সুরাইয়া জান্নাত (১৮)।
তার দ্বারা লেখা কুরআনের প্রতিটি পৃষ্ঠা এতটাই নিখুঁত এবং দৃষ্টিনন্দন যে, প্রথম দেখায় এটি বোঝা কঠিন, এটি ছাপা নাকি হাতে লেখা। এই ব্যতিক্রমী অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে, তাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা পদকও প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে, সুরাইয়া জান্নাতকে সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলাম এবং কান্দিরপাড় উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সুরাইয়া জান্নাত, কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে। যখন তার সমবয়সীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মোবাইল ফোনে সময় কাটাতে ব্যস্ত, তখন তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে, পবিত্র কুরআন স্বহস্তে লেখার মতো কঠিন এবং ধৈর্যধারণকারী কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
সুরাইয়া জানিয়েছেন, পবিত্র কুরআন আল্লাহ তাআলার কালাম। সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে কঠোর প্রচেষ্টা করে কুরআন সংরক্ষণ করেছেন, সেই অনুপ্রেরণা থেকেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, অযথা সময় নষ্ট না করে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশায় কুরআন মাজিদ, নিজ হাতে লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি লেখা শুরু করেন এবং একই বছরের আগস্ট মাসের শেষের দিকে কাজটি সম্পন্ন করেন। মাদ্রাসার ক্লাস এবং নিজের পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে লেখার কাজ চালিয়ে গেছেন, যাতে শিক্ষাজীবনে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। পুরো ৩০ পারার কুরআন লিখতে তার সময় লাগে প্রায় আট মাস। এই কাজে তিনি ৬১১টি পৃষ্ঠা এবং প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করেছেন।
সুরাইয়া জানান, প্রতিবার কুরআন লিখতে বসার আগে তিনি অজু করতেন এবং দরূদ শরিফ পাঠ করে লেখা শুরু করতেন। তার বিশ্বাস, এতে লেখার মধ্যে বরকত ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে তিনি হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সহিহ বুখারিও স্বহস্তে লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং এ জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
তিনি জানান, তার এই দীর্ঘ যাত্রায় সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে ছোট ভাই নাহিদ হাসান, যিনি আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সুরাইয়ার মা, জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, মেয়ের আরবি ভাষা এবং আরবি লেখার প্রতি ছোটবেলা থেকেই গভীর আগ্রহ ছিল। দীর্ঘ আট মাসের সাধনায় মেয়ের এই অসাধারণ অর্জনে পরিবার গর্বিত হয়েছে। মেয়ের এই কৃতিত্বে আনন্দিত হয়ে সৌদি প্রবাসী বাবা, নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা মন্তব্য করেন, এত অল্প বয়সে নিজ হাতে ৩০ পারা পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে সুরাইয়া জান্নাত সত্যিই অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তার হাতের লেখা একেবারে ছাপা অক্ষরের মতো। তার এই অসাধারণ অর্জন নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল এবং ইতিবাচক কাজে উৎসাহিত করবে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন