প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ জন্মভূমি, শৈশবের স্মৃতি এবং মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতি কিংবা ক্ষমতার চেয়ে শিকড় ও মাতৃভূমির আত্মিক টানের মূল্য অপরিসীম। স্মৃতি এবং রক্তের টান অর্থ-সম্পদ দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অগ্রগতির স্বার্থে সকলের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশপ্রেমের রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় নিজের পৈতৃক বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় স্বজন এবং এলাকাবাসীর আয়োজনে সৌজন্য ও স্মৃতিচারণমূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, গণতন্ত্রে মতের ভিন্নতা, মতানৈক্য এবং মতবিরোধ থাকাটা স্বাভাবিক। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে দিন শেষে মনে রাখতে হবে, এই দেশ আমাদের, এ দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ড আমাদের। বিএনপির বর্তমান ভিশন এবং রাজনীতির মূল দর্শন হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশের অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না।
নিজের জন্মস্থানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, তার মা এই মাটিতেই শুয়ে আছেন। কাজের ব্যস্ততার কথা বললেও মাতৃভূমির টানেই বারবার ছুটে আসেন তিনি। পৈতৃক বাড়ির উঠান, বৈঠকখানা, পুকুরপাড় এবং তৎকালীন ‘শান্তির হাট’ ঘিরে থাকা স্মৃতিগুলো তার হৃদয়ে গভীরভাবে গাঁথা রয়েছে।
শৈশবে কমলনগরের ঐতিহ্যবাহী ভুলুয়া নদীতে মাছ ধরার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রকৃতিকে বাধাগ্রস্ত করার কারণে ভুলুয়া নদী পলি জমে শুকিয়ে গেছে এবং এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
ভুলুয়া নদীর নাব্যতা সংকট এবং আঞ্চলিক জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ সম্পর্কে ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের পক্ষ থেকে নদীটি পুনঃখননের বিষয়ে পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। অচিরেই ভুলুয়া নদী পুনঃখনন এবং সংস্কার প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিগত দিনের রাজনৈতিক নির্যাতন এবং কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা অনেক অন্যায় এবং কষ্টের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন। এখন নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করার সময় এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর কাছে দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আলেকজান্ডার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন মিঠু, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র হাসানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু এবং কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন।
মতবিনিময় সভা শেষে ইসমাইল জবিউল্লাহ হাজিরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগত রোগীদের সুবিধার্থে পানির ফিল্টার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ হস্তান্তর করেন।
এ সময় কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান, কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম, রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান, উপজেলা স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকতারুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর জেলা পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন, রামগতি পৌর বিএনপির সভাপতি সাহেদ আলী পটু, কমলনগর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সাজু, শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম প্রিন্সসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন