প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কেবল ঘরবাড়ি, রাস্তা, বাঁধ অথবা ফসলের ক্ষয়ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মৃত্যু, শারীরিক অক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, পুষ্টিহীনতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিচয় হারানো, পেশাগত সংকট এবং সামাজিক বন্ধন ভেঙে যাওয়াও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম বড় ক্ষতি। এই ক্ষতির অর্থ দিয়ে সম্পূর্ণ মূল্যায়ন বা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা তাই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বাজেট ও পরিকল্পনায় ‘নন-ইকোনমিক লস’ অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন।
‘ফলাফল থেকে পদক্ষেপে: অ-অর্থনৈতিক ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতি পূরণের পথ এবং নীতি সমন্বয় জোরদারকরণ’ শীর্ষক এক সভায় বক্তারা এই তাগিদ প্রদান করেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খুলনায় সিএসএস আভা সেন্টারে বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘ-জেজেএস’র উদ্যোগে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ স্পেশাল ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মঞ্জুর আলম।
এ সময় জেজেএস’র নির্বাহী পরিচালক এটিএম জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. সালমা বেগম, উন্নয়ন অধ্যয়ন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাসান হাওলাদার, কুয়েটের অধ্যাপক ড. আনজুম তাবাসসুম, বেলার সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, আইআরভি’র সমন্বয়কারী কাজী জাভেদ খালিদ পাশা, খুলনা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা।
এ সময় উপকূলীয় অঞ্চল থেকে খুলনা শহরে এসে বস্তিতে বসবাসকারী কিছু বক্তা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যেমন ময়না আক্তার, আয়শা আক্তার মেঘলা, লাবনী আক্তার, আছিয়া সুলতানা এবং অ্যাডাম ফাউন্ডেশনের মো. জিল্লুর রহমান।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষয়ক্ষতি, যা আর্থিকভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন। বিশেষ করে মৃত্যু, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, বসতভিটা ও আবাসস্থল হারানো, পেশাগত পরিচয়ের সংকট, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারানোর বিষয়গুলো।
বক্তারা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নন-ইকোনমিক লসকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের বাজেট ও পরিকল্পনায় এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, বাস্তুচ্যুতির কারণে শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। দারিদ্র্যের চাপে শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি, রোগব্যাধি এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতিও ঘটছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন