প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে বেকারত্বের হার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, শিক্ষিতদের মধ্যে এই হার বেশি হওয়া নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। দেশের সরকারি নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের সর্বভারতীয় বেকারত্বের হার ৩.২ শতাংশ হলেও, স্নাতকদের মধ্যে এই হার ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
অর্থাৎ, দেশের তরুণ জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ডিগ্রিধারী বেকার। শিক্ষিত তরুণরা তাদের হাতে থাকা ডিগ্রির প্রতি গর্বিত, কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতির পেছনে আসল কারণগুলো কী?
দিল্লির রাজপথে তরুণদের বিক্ষোভের দৃশ্য অনেকের চোখে পড়েছে। দেখা গেছে, এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী তরুণদের একটি বড় অংশ সচ্ছল পরিবারের সন্তান। অথচ, ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতিতে শিক্ষিতদের একটি বড় অংশ আজও বেকার।
২০১৮ সালে অর্থনীতিবিদ ইন্দ্রজিৎ বৈরাগ্য সতর্ক করেছিলেন যে, শিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্বও বাড়বে। এর কারণ হলো, শিক্ষিত তরুণরা ছোটখাটো বা অনানুষ্ঠানিক কাজ করতে রাজি নন এবং নিরাপদ চাকরির অভাব রয়েছে। নীতি আয়োগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৮.২৫ শতাংশ স্নাতক তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ পদে কাজ করছেন।
অন্যদের বাধ্য হয়ে তাদের যোগ্যতার চেয়ে নিচু পদের কাজ করতে হচ্ছে বা প্রথাগত ডিগ্রি নেওয়ার পর বিশেষ কোনো দক্ষতা অর্জন করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও-র ‘ইন্ডিয়া এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট ২০২৪’ বলছে, কৃষি খাত ছেড়ে আসা তরুণদের জন্য উপযুক্ত ও ভালো আয়ের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি অর্থনীতি।
এটি শুধু সরকারি খরার সমস্যা নয়, বেসরকারি খাতও এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ দশটি অর্থনীতির দেশে গবেষণা ও উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অবদান ৬৮ শতাংশ হলেও, ভারতে তা অর্ধেকেরও কম। মহাকাশ বা প্রতিরক্ষা খাতে সরকারি নজর থাকলেও, তা রাতারাতি কোটি কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার সমাধান সহজ নয়। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে হবে এবং উৎপাদনমুখী শ্রমনিবিড় শিল্পে জোর দিতে হবে। এই দুইয়ের সমন্বয় না ঘটলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমানো সম্ভব নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন