প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার এলাকায় কানুশ্রী জুয়েলার্স নামের একটি জুয়েলারি দোকানে চুরির ঘটনায় জড়িত ৭ জন চোর এবং চুরি করা মালামাল ক্রয়কারী ১ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির উপ পুলিশ কমিশনার ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, গত ১৯ জুন ভোর বেলায় অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন চোর রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার এলাকার কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে উপস্থিত হয়। তারা ঐ স্বর্ণের দোকানের সামনে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রয়ের দোকান বসিয়ে কৌশলে জটলা পাকিয়ে পাশের সোনার দোকানের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে সিন্দুক থেকে আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, ৩ বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কানুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
ঘটনার পরপরই রাজশাহী মহানগর ডিবি, সাইবার ইউনিট এবং সিসি ক্যামেরা ইউনিট একযোগে কাজ করে চোরদের শনাক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করে।
তিনি আরও জানান, চোরের এই টিমটি অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির। তারা এক মোবাইল একবারের বেশি ব্যবহার করে না এবং তাদের ব্যবহৃত সিমের সবগুলোই অন্যের নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত। তারা খুব দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং কেউ এলাকায় থাকে না। প্রতিবছর ১ থেকে ২টি বড় ধরনের চুরি করে। একটি চুরির পূর্বে ৩/৪ মাস সেটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এবং অপরাধ সংঘটনের জন্য নিরাপদ প্রস্থানের কৌশল নির্ধারণ করে। ঘটনার চার মাস আগে তারা এখানে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার নামে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে যায়।
পুলিশ কমিশনার জানান, এদের গ্রেপ্তারে আরএমপির কয়েকটি চৌকস টিম একসাথে কাজ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও পুলিশের আরেকটি টিম ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের স্বপন (৬২), একই গ্রামের উজ্জল (৩৭), একই থানার মাধবপুরা গ্রামের রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাট জেলার শরনখোলা থানার খোন্তাকাটা (জিমতলা) গ্রামের আবু তালেব (৪৫), বাগেরহাট জেলার শরনখোলা থানার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের ইউনুসকে (৪৫) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, পুলিশের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সরকার বাড়ী বজনীখোলা গ্রামের রবিউল হাসানকে (৪৫) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তার রবিউল হাসানের হেফাজত থেকে চোরাইকৃত ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রূপা এবং চোরাই সোনা বিক্রির নগদ ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, গ্রেপ্তারকৃত আসামি সোনা ব্যবসায়ী রবিউল অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে আজ বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করে প্রত্যেকের সাতদিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন