প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার এবং পালমেইরাস ও ফ্ল্যামেঙ্গোর প্রাক্তন তারকা আলেহান্দ্রো মানকুসোর বিরুদ্ধে ভুয়া ফুটবল কোচিং ডিপ্লোমা বিক্রির একটি বৃহৎ প্রতারণা চক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ইউওএল’-এ সাংবাদিক জোয়ানা ডি আসিসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই কেলেঙ্কারির বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে ফ্লুমিনেন্সের অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক থিয়াগো সিলভা এবং ক্লাবটির সাবেক তারকা ফেলিপে মেলোসহ বিশ্ব ফুটবলের বেশ কিছু প্রখ্যাত তারকা ও সাবেক ফুটবলারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মানকুসো বর্তমান ও সাবেক ফুটবলারদের আর্জেন্টিনার ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশনের (এটিএফএ) চারটি স্তরের লাইসেন্স মাত্র ১০ দিনের মধ্যে পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিতেন।
এর মধ্যে বয়সভিত্তিক ফুটবলের জন্য ‘সি’ ও ‘বি’ লাইসেন্স, পেশাদার ফুটবলের জন্য ‘এ’ লাইসেন্স এবং আন্তর্জাতিক মানের কোচিংয়ের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রো’ লাইসেন্স অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পুরো প্যাকেজের জন্য তিনি এক লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল দাবি করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফুটবলাররা প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। থিয়াগো সিলভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিনি মানকুসোর প্রস্তাবিত কোর্সের জন্য অর্থ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি।
পরবর্তীতে এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার সরাসরি এটিএফএ-র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি।
অন্যদিকে, একইভাবে অর্থ পরিশোধ করার পর সন্দেহ হওয়ায় ফেলিপে মেলো নিজেকে গুটিয়ে নেন।
প্রশিক্ষণ কোর্সে নির্ধারিত সশরীরে উপস্থিত থেকে ক্লাস করানোর কথা থাকলেও কোনো সময়সূচি না দেওয়ায় মেলোর মনে সংশয় জাগে।
এর আগে তিনি এটিএফএ-র সদস্য হওয়ার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও করেছিলেন, তবে অসঙ্গতি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই পোস্টগুলো মুছে দেন এবং নিজের অর্থ ফেরত চান।
মেলো বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল কোথাও কোনো সমস্যা রয়েছে। তাই প্রথম কাজ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পোস্টটি সরিয়ে নিই এবং নিজের টাকা ফেরত চাই।’ পরবর্তীতে এই ব্রাজিলিয়ান তার অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কেবল থিয়াগো সিলভা বা ফেলিপে মেলোই নন, এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে লুইস গুস্তাভো, ডিয়েগো লুগানো, পাওলো গেরেরো, রবার্তো কার্লোস, অ্যালেক্স ডি সুজা, দেজান পেটকোভিচ এবং পাউলিনহোর মতো বেশ কয়েকজন বিখ্যাত সাবেক ও বর্তমান ফুটবলারের নামও উঠে এসেছে।
তবে এই জালিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এটিএফএ পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং যে সনদগুলো দেখানো হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া।
অভিযুক্ত মানকুসো নিজেও আর্জেন্টিনার এই সংস্থার সদস্য হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মানকুসো বলেন, ‘অনেক ব্রাজিলিয়ান আমাকে ফোন করেন। কেন? কারণ ব্রাজিলে আমি খুব পরিচিত একজন মানুষ। তারা জানতে চান, কীভাবে এটি করা যায়, কীভাবে এটি পাওয়া যায়। আমি তাদের ফেডারেশনে যোগাযোগের তথ্য দিই, যাতে তারা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
আমি ফেডারেশনে নেই, ফেডারেশনের কোনো অংশও নই। তারা কীভাবে এটি করতে হয় জানতে চাইলে আমি শুধু বিষয়টি সহজ করে দিই, এর বেশি কিছু নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন