প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, ‘মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না’ এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ আত্মপ্রকাশ করেছে, যার নাম ‘মাছি জনতা পার্টি’ (এমজেপি)। ইনস্টাগ্রামভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মটি মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৪০ লাখের বেশি ভিউ এবং ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি অনুসারী অর্জন করেছে।
এমজেপি তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানায়, তারা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সঙ্গে যৌথ কর্মসূচির সম্ভাবনা পরীক্ষা করছে। সম্প্রতি যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী নেহা বোরার প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং সিজেপির দুই নেতাকে আটকের সমালোচনা করে পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
মাছি জনতা পার্টি কী
মাছি জনতা পার্টি মূলত ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। ডিজিটাল রেকর্ড অনুযায়ী, যদিও অ্যাকাউন্টটি ২০২১ সালের জুনে তৈরি হয়েছিল, তবুও এটি অন্তত আটবার নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে ‘makhijantaparty.ig’ নাম ব্যবহার করছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে আর্যন নামের এক শিক্ষার্থী নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন। সম্প্রতি সংগঠনটির পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
এমজেপির জন্ম যেভাবে
গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই পিটিশনে সিজেপির ১০ অক্টোবরের প্রস্তাবিত দিল্লি অচল কর্মসূচির আগে রাজধানীতে ইন্টারনেট, মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করা হয়।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নিরাপত্তার প্রয়োজনে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে বলেন, তবে পুরো ব্যবস্থা অচল করে দেয়া যায় না। এ সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘একটা মাছি মারতে তো আর হাতুড়ি ব্যবহার করা চলে না।’
এমজেপি প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক প্রচার শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সংগঠনটি লেখে, ‘খোদ প্রধান বিচারপতিই যখন বলেছেন মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যাবে না, তখন সেই মাছিই এবার গর্জে উঠে বলছে, সে-ও কারও চেয়ে কম নয়!’
নেপথ্যে ককরোচ জনতা পার্টি
এর আগে গত মে মাসে একটি শুনানির সময় বেকার তরুণদের একাংশকে ‘ককরোচ’ বা আরশোলার সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ ওঠে শীর্ষ আদালতের বিরুদ্ধে। এরপরই ককরোচ জনতা পার্টি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
পরে এই প্ল্যাটফর্মটি বড় পরিসরে পরিচিতি লাভ করে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আন্দোলনের ফলস্বরূপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন না করা এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি বাতিল করে।
নেহা বোরা ও আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এমজেপি। সংগঠনটি আইন মেনে দায়িত্বশীলভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে জোর করে প্রবেশ করে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করে পুলিশ। তাদের আটকের নিন্দা জানিয়ে এমজেপি প্রশ্ন তুলেছে, ‘যন্তর মন্তরের মতো নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলেই যদি কথা বলতে দেয়া না হয়, তবে গণতন্ত্রের অর্থ কী?’
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন