প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ (সিএফজি) চলতি বছরের শেষের দিকে মিয়ানমারের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান এবং খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে, যা সামরিক শাসনের নিয়ন্ত্রণে এবং পশ্চিমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
শাসকগোষ্ঠীর গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সিএফজির চেয়ারপারসন সংনিং শেনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক সোমবার মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাসকগোষ্ঠী-নিযুক্ত তানিনথারি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী জাও নাইং উ। তারা ব্লক এম১৫-এ গ্যাস অনুসন্ধান এবং খনন নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন।
২০১৫ সালের মার্চে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সিএফজির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমওজীর সঙ্গে পণ্য-আদান-প্রদান চুক্তির আওতায় তানিনথারি গভীর সমুদ্র অঞ্চলের ব্লক এম১৫-এর অনুসন্ধানের অধিকার পায়। সম্প্রতি, মিয়ানমার সরকার চারটি নতুন অফশোর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে, এসব গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস থাকার ধারণা করা হচ্ছে।
গ্যাসক্ষেত্রগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়টি তানিনথারি উপকূলের গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ৯০ শতাংশ সম্ভাবনায় প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম বড় এই গ্যাসের মজুদ আন্দামান সাগরের দক্ষিণ তানিনথারি উপকূলের কাছে কাদান দ্বীপের আশপাশে ব্লক এম১৫-এর মধ্যে রয়েছে, যা ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
২০১৭ সালের সিএফজির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লক এম১৫-এ প্রতিষ্ঠানটির ৮০ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে। বিবিসি বার্মিজের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি মিয়ানমারকে যে রাজস্ব দিতে পারে, তা দেশটির মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমান হতে পারে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এমওজিই আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে, কারণ এটি মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস বলে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে যে এই অর্থ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, কানাডা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অংশ হলেও এমওজিইর ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা এখনও আরোপ করেনি।
অধিকারকর্মী সংগঠন ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’ ২০২৩ সালে প্রথম কানাডা সরকারকে এমওজিইর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আহ্বান জানায়। ওই সময় একটি কানাডীয় কোম্পানি মিয়ানমারের একটি পৃথক অফশোর গ্যাস উত্তোলন প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন