প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে একজন অ্যাডিশনাল আইজিপির নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সের দক্ষ সদস্যদের কাজে লাগিয়ে এই ইউনিট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিট ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। যদিও এসব কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে অ্যাডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, তবে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত আছেন। তাঁদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একজন অ্যাডিশনাল আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।
পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বৃদ্ধি করতে সরকার জোর দিচ্ছে। মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকরভাবে দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে সাইবার স্পেসসহ যেকোনো অপরাধ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত থাকতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় পুলিশ স্টাফ কলেজের ভূমি ব্যবহারে এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশের জন্য অর্থ বরাদ্দ, কলেজের অধীনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা, আন্তর্জাতিক পুলিশ একাডেমিগুলোর সংগঠন INTERPA-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন ও বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স ও মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কোর্স চালুর বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন