প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিউজিল্যান্ডের পেসার ব্লেয়ার টিকনার ক্যারিয়ারের শুরুতে পারফরম্যান্সের চাপ এবং প্রত্যাশার বেড়াজালে বন্দি থাকতেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি আর সেভাবে ভাবেন না। স্ত্রীর ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই তার জীবনবোধকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করেছে। এখন তার কাছে ক্রিকেট শুধুমাত্র উপভোগের একটি মাধ্যম, এবং জীবনের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো পরিবার।
৩৩ বছর বয়সি এই পেসার ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে তার জীবনের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শেয়ার করেছেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে টিকনারের স্ত্রী সারাহর লিউকেমিয়া (রক্তের ক্যানসার) ধরা পড়ে। এরপর টানা আট মাস ধরে চলে তার জীবনযুদ্ধ। ওই বছরের বড়দিনের আগের দিন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন সারাহ। বর্তমানে রোগটি প্রশমিত অবস্থায় রয়েছে। স্ত্রীর সেই কঠিন সময়টি টিকনারের জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় ছিল।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে টিকনার বলেন, ‘আমার জীবনটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। পুরোটা সময়ে সারাহ ও আমার পরিবারকে পাশে পাওয়া অসাধারণ ব্যাপার। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি অনেক চাপ অনুভব করতাম। এরপর সারাহর ক্যানসারের চিকিৎসার কঠিন সময় এসেছে। আর এখন মনে হচ্ছে, জীবনের নতুন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছি। জীবনে অনেক কিছুই ক্রিকেটের চেয়ে বড়। এই কঠিন সময় আমাকে সেই উপলব্ধিটাই দিয়েছে।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমি সব সময় মুখে হাসি নিয়ে খেলতে চেষ্টা করি। কারণ জীবনটা যে শুধু ক্রিকেট নয়, সেটা আমি বুঝেছি। ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু দিন শেষে আমি যখন বাড়ি ফিরি, তখন আমার স্ত্রী ও মেয়েকে পাশে পাই। তাদের নিয়ে আমি ভীষণ সুখী এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। তাই আমার কাছে ক্রিকেটের চেয়েও পরিবার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে নিউজিল্যান্ড দল খুব একটা ভালো করতে পারেনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৫ উইকেটে হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে কিউইরা। তবে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ এক ইনিংস খেলে সমর্থকদের চমকে দেন টিকনার। মাত্র ২৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলার সঙ্গে শেষ উইকেটে জ্যাকব ডাফির সঙ্গে গড়েন মূল্যবান ৪১ রানের জুটি।
ব্যাটিংয়ে এমন দারুণ পারফরম্যান্সের পর রসিকতা করতেও ছাড়েননি এই পেসার। মজা করে নিজের ব্যাটিং অর্ডার আরো ওপরে তোলার ইচ্ছার কথা জানিয়ে টিকনার বলেন, ‘মাঠে নামার আগে কয়েকটি কথা হয়েছিল। গতবার এখানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করেছিলাম। তাই ডাফিকে একটু খোঁচা দিয়েছি। ১০ নম্বরে উঠতে পারলে খুশি হব। তবে ধীরে ধীরে তিন নম্বরেও যেতে চাই।’
এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনের ম্যাচে বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়ার সঙ্গে অপরাজিত ১৮ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তিনি।
ভারতের বিপক্ষে আসন্ন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বোলারদের সহায়ক উইকেট চান টিকনার। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে পিচ থেকে বোলাররা বাড়তি সুবিধা পাবে। টিকনারের ভাষায়, ‘বোলার হিসেবে আমি এমন উইকেটই চাই। ৪০০ রান তাড়া করে আরেকটি ৪০০ রানের ম্যাচ দেখতে চাই না। আশা করি, এবার বাড়তি বাউন্স থাকবে এবং পিচ থেকে বল কিছুটা নড়াচড়াও করবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন