প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘টক অব দ্য টাউন’ হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি, আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের অকারণে হেনস্তা করার পর, তিনি দেশের জাতীয় সংগীতের বিকৃত ব্যবহার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ করার পর, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন পরীমণি। এ সময়, তার সঙ্গে থাকা কালো পোশাক পরা ১১ জন বডিগার্ড বিচারপ্রার্থীদের ওপর অকারণে চড়াও হন। এই পরিস্থিতিতে, সুজন চন্দ্র নামের এক বিচারপ্রার্থী অভিযোগ করেন যে, পরীমণির বডিগার্ডের আঘাতে তার মাথা ফেটে গেছে।
আদালত প্রাঙ্গণে সকালে এমন তাণ্ডব করার পর, রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুন ছড়ান পরীমণি। ওই দিনই, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আপত্তিকর ও অশোভন একাধিক শব্দ ব্যবহার করে একটি স্ট্যাটাস দেন। এই বিতর্কিত স্ট্যাটাসের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতও জুড়ে দেন।
জাতীয় সংগীত অবমাননা ও এর বিতর্কিত ব্যবহার সম্পর্কে জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হামিদ খান মন্তব্য করেন, "এক্ষেত্রে অপরাধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রোদ্রোহীর মামলা হতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সংগীত অবমাননা ও এর বিতর্কিত ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে দেশের আইন অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ শাস্তির সাজাপ্রাপ্ত হবেন।"
প্রকাশ্যে দেশের জাতীয় সংগীতের অবমাননা করা হলে কিংবা এর বিতর্কিত ব্যবহার হলে এর সুস্পষ্ট শাস্তি বাংলাদেশে রয়েছে। ‘বাংলাদেশের সংবিধান’র অনুচ্ছেদ ৪-এ জাতীয় সংগীতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তবে এতে সরাসরি শাস্তির বিষয়টি উল্লেখ নেই।
জাতীয় সংগীত অবমাননার শাস্তি সরাসরি উল্লেখ রয়েছে ‘দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যান্থেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম অর্ডার’ (১৯৭২)-এ। এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় সংগীতের অবমাননা করলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এর গাম্ভীর্য ও সম্মান নষ্ট করলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য অপরাধীকে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
২০১০ সালে এ অর্ডারের সংশোধিত আইনে অপরাধীর শাস্তি আরও দ্বিগুণ করা হয়। ‘দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যান্থেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম অর্ডার, ১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০ আইন অনুযায়ী) জাতীয় সংগীত, পতাকা বা প্রতীকের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে বা অবমাননা করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন