প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভীতি কাটিয়ে উঠতে যে কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল পুনিশোলবাসী হাজার হাজার মানুষের, তার পর মুসলিম নারীরা অভিযোগ করছেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতার জন্য বারংবার আবেদন করার পরেও তারা কেবল সরকারি উদাসীনতাই পাচ্ছেন। একইভাবে আদিবাসী নারীরাও একই ধরনের বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন; এই বিষয়ে সরব হতে গিয়ে কেউ কেউ আবার হুমকি ও ধমকের মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার ওন্দা ব্লকের অন্তর্গত পুনিশোল গ্রামের প্রায় ৮,০০০ বৈধ ভোটার ভোটার তালিকার 'বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ' (এসআইআর) চলাকালীন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ছিলেন। তাঁদের নামের বিরুদ্ধে তথাকথিত "যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতি" থাকার অভিযোগ তুলে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল।
নোটিশ পেয়ে বাসিন্দারা চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। কারণ নিজেদের এই দেশেই জীবিত ও বৈধ নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করার ভার তাঁদের ওপরই দেওয়া হয়েছিল। কয়েকজন বাসিন্দা ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে উপস্থিত হলেও তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাঁদের বক্তব্য বা উদ্বেগে কোনো গুরুত্বই দেননি। গত ১৭ মার্চ, পুনিশোলের ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ বৈধ ভোটারদের সাথে কথা বলে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে 'দ্য ওয়্যার'।
প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর গ্রামবাসীরা তার কপি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ওন্দা ব্লক অফিসে জমা দেন। এরপর সরকারি কর্মকর্তারা পুনিশোল পরিদর্শনে যান, নথিপত্র পরীক্ষা করেন এবং উপযুক্ত ভোটারদের নাম তালিকায় ফের যুক্ত করেন। ফলে বাসিন্দারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। নির্বাচনের দিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার সময় বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিডিয়া তাঁদের এই দুর্দশার কথা তুলে না ধরলে হয়তো তাঁরা ভোটই দিতে পারতেন না।
এখন রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পুনিশোল গ্রামের নারীরা নতুন করে আরও একটি ধাক্কা খেয়েছেন। এবার তাঁদের অভিযোগ রাজ্য সরকারের নারী সামাজিক কল্যাণমূলক ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ভাতা থেকে তাঁদের বঞ্চিত রাখা নিয়ে।
‘আমরা বারবার আবেদন করেছি, কিন্তু টাকা কখনো আসেনি’
পুনিশোলের ২০টি পাড়ায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রায় ৯,০০০ নারী বসবাস করেন। গ্রামের এক স্বাস্থ্যকর্মী গোলাম খাজা জানান, প্রায় ৮,০০০ নারী অনলাইনে ও অফলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করলেও মাত্র ৫০০ জনের মতো নারী আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
জাসিমা খাতুন নামের এক আশা কর্মী বলেন, নারীরা প্রায়ই তাঁর কাছে এসে জানতে চান কবে তারা এই ভাতার টাকা পাবেন। “আমরা প্রতিদিন স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিষয়ে খবরাখবর নিতে এই নারীদের বাড়ি বাড়ি যাই। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চান অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কবে আসবে। কিন্তু আমাদের কাছে দেওয়ার মতো কোনো উত্তর নেই,” বলেন তিনি।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর), 'দ্য ওয়্যার'-এর প্রতিনিধি পুনিশোলের একাধিক পাড়ায় গিয়ে স্থানীয় নারীদের সাথে কথা বলেন। তাঁরা জানান, বারবার পুনিশোল পঞ্চায়েত ও ওন্দা ব্লক অফিসে গিয়েও কোনো সদুত্তর পাননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, আধিকারিকরা তাঁদের কথা না শুনেই সরাসরি তাড়িয়ে দিয়েছেন।
হাঁসদাবাদ পাড়ার গৃহবধূ রোশনা বিবি মন্ডল, জারিনা বিবি মল্লিক, সোলেমা খাতুন ও লতিফুন বিবি বলেন, “সরকার যখনই ফরম জমা দিতে বলেছে, আমরা জমা দিয়েছি। পরে বলা হলো অনলাইনে আবেদন করতে, আমরা সেটাও করেছি। অথচ আজ পর্যন্ত আমরা একটা টাকাও পাইনি।”
তারা জানান, আবেদন কেন আটকে আছে তা জানতে ব্লক অফিসে গেলে তাঁদের কোনো পাত্তাই দেওয়া হয়নি।
বারবার চক্কর কাটার পর কয়েকজন কর্মকর্তা নাকি তাঁদের স্পষ্ট বলে দেন যে, হিন্দু আবেদনকারীরা আগে টাকা পাবেন, তার পর পাবেন মুসলিমরা। “এটা কী ধরনের বিচার?” প্রশ্ন তোলেন ফাতেমা বিবি খান ও আখরুন খাতুন।
এলাকার নারীরা জানান, ইতিপূর্বে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় চালু থাকা ‘লক্ষ্মী ভান্ডার’ প্রকল্পে তারা ১৫০০ রূপি পেতেন। কিন্তু বর্তমান ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকার ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩,০০০ রুপি করার পর কেন সেই টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেল—তা তারা বুঝতে পারছেন না। “আমাদের আবেদনে কি কোনো ভুল ছিল? কেউ তো কিছুই বলছে না। আমরা মুসলিম বলেই কি টাকা পাব না?” প্রশ্ন তোলেন তারা।
আখরুন খাতুন বলেন, “হিন্দু-মুসলিম সবাই এক হয়ে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছি। তাহলে এখানে আমাদের সাথে কেন এই বৈষম্য? আগে তো কখনো এমন ঘটেনি।”
জারিনা বিবি জানান, বারবার ধর্না দিয়েও হাঁসদাবাদ পাড়ার একজন নারীও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি। “ওরা খালি নথিপত্র জমা নেয় আর বলে যাচাই করা হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না,” বলেন তিনি। অপমানিত হওয়ার ভয়ে অনেক নারী এখন আর ব্লক অফিসে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। গৃহবধূ জোৎস্না খাতুন ও হাবিবা বিবি মন্ডল বলেন, “আমরা এখন ব্লক অফিসে যেতে ভয় পাই। যদি আবার আমাদের অপমান করে তাড়িয়ে দেয়?”
ফিরোজা খাতুনসহ অন্য নারীরা প্রশ্ন তোলেন, “ভোটের সময় আমাদের নাম কেটে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। তখনও আমাদের হেনস্থা করা হয়েছে। যখন আমরা ব্লক অফিসে গিয়ে ‘দ্য ওয়্যার’-এর রিপোর্ট দেখালাম, তখন গিয়ে হয়রানি থামল আর ভোট দিতে পারলাম। এখন আমরা কার দরজায় গিয়ে দাঁড়াব?”
‘পরিবার চালানোর জন্য এই টাকাটা আমাদের খুব দরকার ছিল’
দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে এই অনুদানের মূল্য অনেক। নারীরা জানান, এই টাকাটা সংসারের নিত্যদিনের খরচ সামলাতে খুব সাহায্য করত। লতিফুন বিবি মন্ডল বলেন, “আমাদের বাড়ির পুরুষরা প্রতিদিন ভোরে সাইকেল নিয়ে বাঁকুড়া, তালড্যাংরা, ওন্দাসহ নানা এলাকায় কাজে বেরিয়ে যান। তাঁরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরনো বস্তা, বই-খাতা, পেপার, লোহালক্কড় ও ভাঙাচোরা কম দামে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করেন। লক্ষ্মী ভান্ডারের যে টাকাটা পেতাম, তা দিয়ে সংসারটা কোনোমতে টেনেটুনে চলত। এখন সেই টাকাটাও বন্ধ হয়ে গেছে।”
একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন জোৎস্না বেগম ও হাবিবা বিবি মন্ডল। তাঁরা জানান, প্রয়োজন হলে তাঁরা আবারও ওন্দা ব্লক অফিসে যাবেন এবং সেখানে ধর্না দেবেন। নারীদের স্পষ্ট কথা—তারা সরকারি নিয়ম মেনেই আবেদন করেছেন, সুতরাং কেন টাকা দেওয়া হচ্ছে না তার স্পষ্ট জবাব সরকারকে দিতেই হবে।
কারিগরি সমস্যার অজুহাত বিজেপি বিধায়কের; মানতে নারাজ নারীরা
পুনিশোলের এত বিপুল সংখ্যক নারী কেন ভাতা পাচ্ছেন না জানতে চাওয়া হলে ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা জানান, কিছু আবেদনকারীর হয়তো দুই বা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ডের লিঙ্ক নেই, যার কারণে টাকা প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না।
তবে বিধায়কের এই ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ নারীরা। হাঁসদাবাদের বাসিন্দা নাসুদা বিবি খান ও জারিনা বিবি মল্লিক বলেন, “আমরা রাত জেগে বাঁকুড়া হেড পোস্ট অফিসে গিয়ে মোবাইল নম্বরের সাথে আধার কার্ড লিঙ্ক করিয়েছি। আমাদের মধ্যে কার দুটো-তিনটে অ্যাকাউন্ট আছে?” নারীদের এই ক্ষোভ একটি বড় প্রশ্ন তুলে দেয়—যেখানে নিয়ম মেনে আবেদন করা সত্ত্বেও সাহায্য মিলছে না, সেখানে এত বিলম্বের সঠিক কারণ কেন তাঁদের স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে না?
অন্নপূর্ণা ভাতার দাবিতে প্রতিবাদ করায় হুমকির মুখে আদিবাসী নারীরা
শুধু পুনিশোলের মুসলিম নারীরাই নন, পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল অধ্যুষিত বাঁকুড়া জেলার তপশিলি উপজাতি (এসটি) সম্প্রদায়ের নারীরাও একই অন্নপূর্ণা যোজনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বাঁকুড়া জঙ্গলমহল এলাকার অংশ, যেখানে বিশাল সংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। রানিবাঁধ, রাউতোড়া ও বারিকুল এলাকার জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি সাঁওতাল, শবর, মাহালি, ভূমিজ, মুণ্ডা ও কোড়া সম্প্রদায়ের মানুষ।
এই সম্প্রদায়ের নারীরাও জানিয়েছেন যে, পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে বারবার ধরণা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।
রাজাকাত এলাকার বিরোতি গ্রামের সরস্বতী সরদার ও ভানুমতী সরদার এবং জিলিমিলির নমিতা টুডু ও কল্পনা সোরেন বলেন, “আমরা পঞ্চায়েত আর ব্লক অফিসে অন্নপূর্ণার টাকার জন্য বহুবার গিয়েছি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনে না। আমরা এখন পঞ্চায়েত অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ভানুমতী সরদার অভিযোগ করেন, গত ৭ অক্টোবর তারা যখন রাজাকাত এলাকায় ডেপুটেশন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন বিজেপি কর্মীরা তাঁদের ভয়ভীতি দেখান। “তারা আমাদের হুমকি দিয়েছিল যে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ খুললে ফল ভালো হবে না। কিন্তু আমরা তাঁদের হুমকিতে মাথা নত করিনি। হামলা হলে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিয়েই আমরা ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিলাম,” বলেন ভানুমতী। শেষ পর্যন্ত তারা ডেপুটেশন জমা দিতে সক্ষম হন।
একইভাবে বড়জোড়া এলাকার শীতলা গ্রামের সর্পবেদা পরিবারের বহু আদিবাসী নারী এই ভাতা পাননি। মালা সর্পবেদা নামে এক স্থানীয় নারী জানান, তিনি সরকারি নিয়ম মেনে ফরম পূরণ করে জমা দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাননি।
রাজ্যজুড়ে ৩০ লাখেরও বেশি নারীর আবেদন ‘যাচাইকরণে’ আটকে
পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি নারীর আবেদন এখনো যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার অধীনে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশু বিকাশ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনলাইনে ও অফলাইনে মোট প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৬ লাখ নারীকে ৩,০০০ রুপি করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন পোর্টালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নতুন করে আবেদন জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নারীদের কাছে নেই। গত ২ থেকে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত "সেবা সেতু অভিযান" শিবিরে প্রথমে অন্নপূর্ণা যোজনাকে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে ভাতা না পাওয়া নারীদের তুমুল ক্ষোভের মুখে পড়ে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত অভিযোগ বা ক্ষোভ গ্রহণের বিশেষ ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও কেন এত বিপুল পরিমাণ আবেদন যাচাইকরণের নামে আটকে রাখা হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নারীরা।
ক্ষুব্ধ নারীদের দেখা করার আহ্বান বিজেপি বিধায়কদের
আন্দোলন ও অসন্তোষ বাড়তে থাকায় ক্ষমতাসীন বিজেপি বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বিজেপি বিধায়কেরা যাদের আবেদন আটকে রয়েছে, তাঁদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার কথা বলেছেন। তবে এই ধরণের বৈঠকগুলো নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
সম্প্রতি বাঁকুড়া শহরের কেথারডাঙ্গা এলাকার মুসলিম নারীরা বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি তাঁদের চরম অপমান করেন এবং সেখানে ধর্মীয় বিভাজনের উসকানি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার পাওয়ার জন্য সরকার প্রথমে কিছু লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছিল। তবে পরবর্তীতে মৌখিক ও অলিখিত নির্দেশনার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, তেমনই একটি অলিখিত নির্দেশ ছিল—যেসব পরিবারের মাসিক আয় ১০,০০০ টাকার বেশি, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এই পরিবর্তনশীল ও অলিখিত নিয়মাবলীর কারণে আবেদন যাচাইয়ের কাজে চরম গোলযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা যাচাই সম্পন্ন করার পরও বহু আবেদন ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকগুলোতেও অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন জনসভাতেও বিষয়টি উঠেছে, তবুও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন