প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাইকোর্ট ইব্রাহিম আলী শেখের ২২ বছর অন্যায়ভাবে কারাভোগের জন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে। একই সঙ্গে, উচ্চ আদালতের খালাসের আদেশ বাস্তবায়নে আট বছরের বিলম্ব কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত।
সোমবার, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অ্যানেক্স ভবনের ২৯ নম্বর কোর্টে বিচারক ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর আদালতে রিট পিটিশনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত এ রুল জারি করে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক ও অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাসান শহীদ কারুজ্জামান বিষয়টি দৈনিক যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। রিটে ইব্রাহিম আলী শেখের ২২ বছরের কারাবাস এবং খালাসের আদেশ কার্যকর করতে আট বছরের বিলম্বের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
রিটের প্রার্থনায় উল্লেখ করা হয়, ইব্রাহিমের খালাসের আদেশ প্রেরণ ও কার্যকর করতে আট বছরের অবহেলা কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক, কোনো আইনি কর্তৃত্ববিহীন এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে দেওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না? তা জানতে চেয়ে রুল জারি করার আবেদন করা হয়।
এছাড়া, ২২ বছরের অন্যায় কারাবাস এবং অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় আটক থাকার কারণে স্বাধীনতা, সম্মান ও জীবিকা হারানোর জন্য ইব্রাহিমকে পাঁচ কোটি টাকা অথবা আদালত নির্ধারিত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, একজন নিরপরাধ ব্যক্তি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। হাইকোর্ট থেকে খালাস পাওয়ার পরও তাকে মুক্তি পেতে আরও আট বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এটি রাষ্ট্রীয় অবহেলার চরম উদাহরণ। খালাসের আদেশ কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে ইব্রাহিমের জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র তার জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময় ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে বাকি জীবন যেন নিরাপদে কাটাতে পারেন, সেজন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আদালত কেন তাকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেবেন না, এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে রুল জারি করা হয়েছে।
এর আগে, ২০১৭ সালে একটি মামলায় হাইকোর্ট ইব্রাহিম আলী শেখকে খালাস দেন; কিন্তু সেই খালাসের আদেশ যথাসময়ে কারাগারে না পৌঁছানো এবং কার্যকর না হওয়ায় তিনি আরও প্রায় আট বছর কারাগারে ছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হলে তার মুক্তি ও পুনর্বাসনের বিষয়টি সামনে আসে। এখন দীর্ঘ কারাবাসের ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন