প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকারের প্রতি সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।" তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এর ফলস্বরূপ সরকারকে মূল্য দিতে হবে। জনগণ রাজপথে নেমে দাবি আদায় করবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর যশোরের মুড়লীর মোড়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যশোর জেলা জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য সংসদে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারসহ সাত দফা দাবি সংসদে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে সরকার যদি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সাত দফা দাবি এক দফায় রূপ নিতে পারে। প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সরকারি বিভিন্ন কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "সরকারি সুবিধা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ নয়।" তিনি আরও বলেন, "এসব সুবিধা জনগণের অধিকার।" অথচ প্রকৃত উপকারভোগীরা অনেক ক্ষেত্রে তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, "গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে মতামত দিয়েছে, তা উপেক্ষা করা হচ্ছে।" তিনি বলেন, "জাতির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।" জনগণের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।" তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা আবারও ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটবে, তাদের পরিণতি ভালো হবে না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে নেমেছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই তাদের আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি দাবি করেন, এ আন্দোলনের পেছনে ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা বিশেষ রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্য নেই। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নই তাদের মূল লক্ষ্য। সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে দাবি পূরণের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
পথসভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, এলডিপির বিল্লাল হোসেন নিয়াজী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চান ও মুফতি শরাফত হোসেন আরও বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মোক্তার আলী, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এনামুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবু জাফর, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন