প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সরকার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছে।
এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, আধুনিক উৎপাদন শিল্প, জাহাজ নির্মাণ ও হালকা প্রকৌশল খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।
সফরের সময়, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এই আলোচনাগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।
ইআরডি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সফরের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন স্যামসাং, হানওয়া ওশান, নাভার, ইয়ংওয়ান, ফিউরিওসাএআই এবং এলজি এআই রিসার্চ। এছাড়া এসকে গ্যাস ও নাভারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের পরিবহন, জ্বালানি, নগর সেবা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে সমন্বিত বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল, শহর ও বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারগুলোর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা। সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে নতুন প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০৪৫-৪৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় এই অর্থের সংস্থান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, দ্বিপক্ষীয় পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের বেশ কয়েকটি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরির মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন ১৭টি বরাদ্দবিহীন ও অননুমোদিত সরকারি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের কয়েকটিতে এডিবির সহ-অর্থায়নের সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে পরিবহন, পয়ঃনিষ্কাশন, গবেষণা, স্বাস্থ্য এবং দক্ষতা উন্নয়ন খাতের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন এবং অর্থায়নের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা পাওয়া যাবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন