প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার কেরানীগঞ্জে অটোরিকশা চালক জুয়েলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর তার যানটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজন আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে, আসামিদের ছিনতাইয়ের অপরাধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাইন এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আলী হোসেন, লুৎফর রহমান এবং হাসান। এছাড়া, ছিনতাই করা অটোরিকশা জেনেও কম দামে কেনার অপরাধে গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি বিচারক প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত নিহতের পরিবার ও এতিম সন্তানদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় সাপেক্ষে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
রিয়াজুল ইসলাম আরও জানান, ছিনতাইয়ের দায়ে তিন আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা আসামি আলী হোসেন, লুৎফর রহমান এবং হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় পড়া শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাদের আবারো কারাগারে পাঠানো হয়। সাজাপ্রাপ্ত গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন জুয়েল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে আসামি আলী ও লুৎফর যাত্রীবেশে রুহিতপুর বাজার থেকে জুয়েলের অটোরিকশা ভাড়া নেন।
তারা জুয়েলকে ভাষানচর কাঠবাগানের দিকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা হাসান ও এনামুল নামের এক কিশোর তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। চারজন মিলে জুয়েলের হাত-পা ও মুখ চেপে ধরে ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তার কাছে থাকা মোবাইল, নগদ টাকা ও অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
পরদিন ধইঞ্চা ক্ষেত থেকে জুয়েলের মরদেহ উদ্ধার করা হলে তার বোন সাবিনা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক মাহমুদ আলম চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র এবং কিশোর এনামুলের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ২৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিপক্ষে একজন সাফাই সাক্ষ্য দেন। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ এ রায়ের দিন ধার্য ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন