প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দৌড়ে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে এর নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান এআই বা ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই’ তৈরি ও ব্যবহারে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছেন।
এছাড়া, উন্নত এআই প্রযুক্তির উন্নয়নেও সাময়িক বিরতির দাবি করা হয়েছে।
র একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং প্রতিনিধি গ্রেগ কাসার। তাদের প্রস্তাবিত ‘ব্যান আর্টিফিশিয়াল সুপারইনটেলিজেন্স অ্যাক্ট’ বিলটির উদ্দেশ্য হলো এমন এআইকে প্রতিরোধ করা।
এ ধরনের এআই মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
উন্নত এআই তৈরিতে সাময়িক বিরতির দাবি
স্যান্ডার্সের মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত আরও শক্তিশালী এআই তৈরি করছে। তবে এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, তা সম্পূর্ণরূপে জানা নেই। তাই যথাযথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত উন্নত এআইয়ের উন্নয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা উচিত।
তিনি মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান এআই তৈরিতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন। তার প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করার কথাও বলা হয়েছে, যাতে কোনো দেশ এককভাবে এমন প্রযুক্তি তৈরি করতে না পারে।
কেন এমন দাবি?
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এআইয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টদের একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় এক হাজারের বেশি এআই এজেন্ট নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে ইন্টারনেটে সংযোগ স্থাপন এবং হাগিং ফেসে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টদের একটি জার্মান প্রোগ্রামিং উইকি সাইট দখল করে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের ঘটনাও সামনে এসেছে। এই ঘটনা এআই সিস্টেম কতটা স্বাধীনভাবে আচরণ করতে পারে, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্যান্ডার্সের যুক্তি, যদি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতারা স্বীকার করেন যে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠছে, তাহলে আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি তৈরির আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
কঠোর শাস্তির প্রস্তাব
প্রস্তাবিত আইনে শুধু নিষেধাজ্ঞার বিষয় নয়, আইন ভঙ্গকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ ধরনের সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই তৈরিতে জড়িত থাকে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া, এআই নিরাপত্তা তদারকির জন্য একটি নতুন কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংস্থাটি এআই নিরাপত্তা নীতি তৈরি ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
‘মানবতার ভবিষ্যৎ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে নয়’
প্রতিনিধি গ্রেগ কাসারও এই বিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার বক্তব্য, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এআই প্রযুক্তি এত দ্রুত এগিয়েছে যে এখন এমন মডেল তৈরি হচ্ছে, যেগুলোকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্যান্ডার্সের মতে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। মানবতার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মতামত থাকা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত বিলটি এখনো আইন হয়নি। তবে এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও জোরালো হলো। বিশেষ করে মানুষের চেয়ে বেশি সক্ষম ও স্বায়ত্তশাসিত এআই তৈরি করা কতটা নিরাপদ—এ প্রশ্নটি এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে বড় হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন