প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আইসিসি ক্রিকেটের নিয়মে কিছু নতুন পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে সময় নষ্ট ঠেকানোর ব্যবস্থা, বলের মাপ নির্ধারণ এবং ফিল্ডিংয়ের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
নতুন নিয়মগুলি ১ অক্টোবর বা তার পরে শুরু হওয়া সব আন্তর্জাতিক সিরিজে প্রযোজ্য হবে। পূর্বে শুরু হওয়া সিরিজগুলোর ক্ষেত্রে পুরোনো নিয়মই কার্যকর থাকবে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে আসন্ন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজেও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ছেলে ও মেয়েদের সব ফরম্যাটের হালনাগাদ নিয়ম আইসিসির ওয়েবসাইটের রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস অংশে পাওয়া যাবে। এই নিয়মগুলোর মধ্যে এমসিসির ক্রিকেট আইনেও আজ থেকে কার্যকর পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আইসিসির পুরুষ ক্রিকেট কমিটির সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী মন্তব্য করেছেন, ‘খেলার শর্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে আছে ক্রিকেট বলসংক্রান্ত নিয়ম, ফিল্ডিংয়ের কিছু বিষয়ে আরও স্পষ্টতা এবং খেলার গতি বাড়ানোর ব্যবস্থা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এই পরিবর্তনগুলো খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে, যাতে খেলার শর্ত আধুনিক খেলার প্রয়োজন মেটায় এবং একই সঙ্গে খেলার সততা ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।’
সব ফরম্যাটের নিয়মে পরিবর্তন আসছে
১। ব্যাটারদের সময় নষ্টের নিয়মকে আরও পরিষ্কার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাটার যদি বল খেলতে প্রস্তুত না হন, তবে প্রথমবার সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। দ্বিতীয়বার চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। তৃতীয়বার এবং পরবর্তী প্রতিবার ফিল্ডিং দল ৫ রান পাবে। বারবার এমন ঘটলে আচরণবিধির ধারাও কার্যকর হতে পারে।
২। মেয়েদের ক্রিকেটের বলের মাপ ও ওজনের ক্ষেত্রে এখন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পুরুষদের বলের মাপ ও ওজনে কিছুটা ব্যতিক্রমের সুযোগ থাকলেও, মেয়েদের ও জুনিয়র ক্রিকেটে প্রস্তুতকারকেরা প্রায়ই দুই ক্ষেত্রের জন্য একই বল তৈরি করতেন। নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ছেলে, মেয়ে ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য আলাদা তিনটি মান থাকবে।
৩। ওভারথ্রো নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা এখন পরিষ্কার হয়েছে। স্ট্যাম্পের দিকে বল ছুড়ে রান আটকানো বা রানআউটের চেষ্টা করলে সেটিকে ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে বল থামাতে গিয়ে ভুল করা বা অন্য ফিল্ডারকে বল দিতে গিয়ে ভুল করলে সেটি ওভারথ্রো হিসেবে ধরা হবে না।
৪। বল কখন পুরোপুরি ‘ডেড’ হয়েছে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা আম্পায়ারদের এখন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘ক্লোজ’ ম্যাচের শেষ বলে এই সিদ্ধান্ত অনেক সময় অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। এখন থেকে বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকতেই হবে, এমন নয়।
৫। রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের সময় বল ফিল্ডারের হাতে আছে বলে ধরতে হলে ফিল্ডারের বলের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। বল স্টাম্প ভাঙার সময় যদি শুধু হাত ছুঁয়ে যায়, তবে সেটি ‘বলের নিয়ন্ত্রণে থাকা’ হিসেবে গণ্য হবে না।
টেস্ট ক্রিকেটের নিয়মে যে সব পরিবর্তন
৬। খারাপ আলোয় খেলা নষ্ট কমানোর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে দিনের বেলার টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে। তবে দুই দলের সম্মতি প্রয়োজন। টেস্ট শুরুর আগে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একবার ঠিক হলে পুরো ম্যাচে একই বল ব্যবহার হবে। ম্যাচ শুরুর পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে না। লাল বল থেকে গোলাপি বলের পরিবর্তনও করা যাবে না।
৭। দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে খেলা শেষ করা যাবে না। আবহাওয়া ও পরিস্থিতি খেলার উপযোগী থাকলে ওভারটি শেষ করতে হবে। আইসিসির মতে, আগের নিয়মে সময় বাঁচানো যেত না। কারণ বাকি বলগুলো পরের দিন করতে হতো। এতে ফিল্ডিং দলও বাড়তি সুবিধা পেত। নতুন নিয়মে খেলার উত্তেজনাও বজায় থাকবে।
টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের নিয়মে যে সব পরিবর্তন হয়েছে
৮। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে ইনিংসের মাঝের বিরতি এখন ১৫ মিনিট। খেলায় সময় নষ্ট হলে এই বিরতি কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।
৯। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ড্রিংকস ব্রেকের সময় হেড কোচ বা তার মনোনীত কেউ মাঠে ঢুকতে পারবেন। এখন দুই ফরম্যাটের নিয়ম একই রকম হয়েছে।
১০। ওয়াইড বলের নতুন নিয়ম আগে পরীক্ষামূলকভাবে চলছিল। এখন তা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের স্থায়ী নিয়ম হয়ে গেছে। ব্যাটার বল করার আগে বা বল করার সময় নড়াচড়া করলে বোলারকে ছাড় দেওয়ার জন্য এই নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে। বল করার মুহূর্তে ব্যাটারের পায়ের অবস্থানকে ওয়াইডের মাপকাঠি হিসেবে ধরা হবে এখন থেকে। ব্যাটার পরে অফ সাইডের দিকে সরে গেলেও এটাই ধরা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন