প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন, যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সংঘটিত এই হামলায় নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশের জরুরি সেবা বিভাগ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। খবরটি রয়টার্সের।
জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকারী দলের দুই সদস্য এবং চার পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই উদ্ধারকর্মীও অন্তর্ভুক্ত।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সোমবার রাতের নিয়মিত ভিডিও ভাষণে জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী প্রথমে গ্রামের একটি স্কুলে বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করে। উল্লেখ্য, স্কুলটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং প্রতি সোমবার সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হতো।
তিনি আরও জানান, যুদ্ধের সম্মুখসারির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে স্কুলটিতে কোনো ক্লাস চলছিল না। অঞ্চলটির প্রধান শহর জাপোরিঝিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গ্রামটির অবস্থান।
জেলেনস্কি বলেন, ‘মানুষ যখন সেখানে আসতে শুরু করেন, ঠিক তখনই রাশিয়া প্রথম হামলা চালায়। কয়েকটি বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় আরও বোমা নিক্ষেপ করা হয়, এবার আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে। এটি একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা।’
তিনি উল্লেখ করেন, কোমিশুভাখায় অবস্থানরত বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে মানবিক সহায়তার প্যাকেট সংগ্রহ করতে একত্র হন, যা রুশ বাহিনীর অজানা থাকার কথা নয়।
জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিবর্তে মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বাস্তবায়িত হয়।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়া বারবার ইউক্রেন এবং এখানে বিদ্যমান সবকিছুর প্রতি তাদের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। রাশিয়া যদি সত্যিই উত্তেজনা কমাতে চাইত, তাহলে ওলেশকির ঘটনার পর মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার সুযোগ ছিল। আমরা এমন প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু রাশিয়া মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে।’
এদিকে, হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার অংশগ্রহণ পুনর্বহালের পক্ষে ক্রীড়া আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দেশটির অংশগ্রহণ বর্জনের আহ্বান জানান।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিবিহা বলেন, ‘রাশিয়ার প্রাপ্য নিন্দা, বিচ্ছিন্নতা ও শাস্তি; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে ফিরে আসার সুযোগ নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, রাশিয়ার অপরাধকে দেশটির পতাকা, জাতীয় দল কিংবা আন্তর্জাতিক বৈধতা ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টা থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
জাপোরিঝিয়া সিটি কাউন্সিলের সচিব রেজিনা খারচেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলার পর ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আঞ্চলিক পুলিশ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। হামলার পর ঘটনাস্থলের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এর এক দিন আগে খেরসন অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সেখান থেকে চলে যেতে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য ঘোষিত ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন