প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলমান প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩২৫ জনে। এর ফলে, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবের মৃত্যুসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গিয়ে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে।
ডিআর কঙ্গোর জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার (১৬ আগস্ট) পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্তের নিশ্চিত সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৯৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০১ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব। এটি ডিআর কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে জুলাইয়ের শেষদিকে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবের রেকর্ড গড়ে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবার মৃতের সংখ্যা ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকে ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বুধবার সতর্ক করে বলেন, বর্তমান গতিতে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে এটি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারির মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই মহামারিতে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরসের বান্দিবুগিও প্রজাতি। এ প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর থেকে দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো, দুর্গম অঞ্চল এবং দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও রুয়ান্ডার সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার বা ‘কেস ফ্যাটালিটি রেশিও’ জুনের শুরুতে প্রায় ২০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ নিশ্চিত আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই মারা যাচ্ছেন।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের (এমএসএফ) জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থমাস পারিশ বলেন, সাধারণত কোনো প্রাদুর্ভাবের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে রোগী শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসন্ধান এবং দ্রুত চিকিৎসার কারণে মৃত্যুহার কমে আসার কথা। কিন্তু ডিআর কঙ্গোতে অনেক রোগী এখনো খুব দেরিতে শনাক্ত হচ্ছেন। এমনকি অনেকে মারা যাওয়ার পর তাদের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।
এদিকে, অল্পসংখ্যক পরীক্ষামূলক টিকা ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে মূল্যায়ন চলছে। পাশাপাশি বিদ্যমান ইবোলা চিকিৎসা নতুন প্রাদুর্ভাবে কার্যকর হতে পারে কি না, তা যাচাই করছেন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আলজাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন