প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে সাসটেইনেবিলিটি বা টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনন্ত আম্বানির বিশাল সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৬৪০ কোটি রুপি মূল্যের সমুদ্রতীরবর্তী ভিলা, হাজার কোটি রুপি মূল্যের ব্যক্তিগত জেট, কোটি কোটি রুপি দামের দুর্লভ ঘড়ি এবং বিলাসবহুল সাঁজোয়া গাড়ি—তার সংগ্রহে রয়েছে চোখধাঁধানো সব সম্পদ। আজকের এই ফিচারে তার বিলাসী সম্পদের তালিকা তুলে ধরা হচ্ছে।
৬৪০ কোটি রুপির পাম জুমেইরাহর ভিলা
২০২২ সালে জন্মদিনের উপহার হিসেবে অনন্ত আম্বানিকে তার বাবা মুকেশ আম্বানি এই বিলাসবহুল বাড়িটি উপহার দেন। দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহতে অবস্থিত এই বাড়িটি একটি ১০ শয়নকক্ষের সমুদ্রতীরবর্তী প্রাসাদ। বাড়িটির সঙ্গে প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ ব্যক্তিগত সৈকত রয়েছে।
ইতালিয়ান মার্বেলের নকশায় সাজানো এই ভিলায় রয়েছে দামী শিল্পকর্মের সংগ্রহ, ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, স্পা এবং নান্দনিকভাবে সাজানো বাগান।
বাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৬৪০ কোটি রুপি বা ৮ কোটি মার্কিন ডলার। দুবাইয়ের অভিজাত এলাকায় অনন্ত ও তার স্ত্রী রাধিকা মার্চেন্ট এমন প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাস করেন, যাদের মধ্যে সাবেক ইংলিশ ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যামের মতো তারকাও রয়েছেন।
১ হাজার কোটি রুপির ব্যক্তিগত জেট
আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য অনন্ত আম্বানি ও তার স্ত্রী রাধিকা বিশেষভাবে সাজানো বোয়িং বিজনেস জেট ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ ব্যবহার করেন।
এই উড়োজাহাজটির মূল দাম প্রায় ১১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৮৯ কোটি রুপি। তবে সুইজারল্যান্ডে তৈরি বিশেষ বিলাসবহুল অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কারণে জেটটির মোট মূল্য ১ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বের অতি ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে এমন বিলাসবহুল ব্যক্তিগত জেট ব্যবহারের নজির রয়েছে, যার মধ্যে ইলন মাস্কও রয়েছেন।
অনন্তের ঘড়ির সংগ্রহে সবচেয়ে নজরকাড়া ঘড়িগুলোর একটি পাটেক ফিলিপ গ্র্যান্ডমাস্টার চাইম ৬৩০০জি-০১০।
ঘড়িটিতে ২০টি জটিল ফাংশন বা কমপ্লিকেশন রয়েছে এবং এটি উলটে ব্যবহার করা যায় এমন বিশেষ কেসে সংরক্ষিত। বিশ্বের সবচেয়ে জটিলভাবে তৈরি বিলাসবহুল ঘড়িগুলোর মধ্যে এটিকে ধরা হয়।
এর আনুমানিক মূল্য ৭৫ কোটি রুপি। ঘড়িটির বিভিন্ন সংস্করণ বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। মার্কিন র্যাপার ও ব্যবসায়ী জে-জেডের মতো তারকার কাছেও পাটেক ফিলিপের দুর্লভ ঘড়ি রয়েছে।
অনন্ত আম্বানির ঘড়ির সংগ্রহে আরেকটি ব্যতিক্রমী নাম রিচার্ড মিল আরএম ৫২-০৪ স্কাল ব্লু স্যাফায়ার।
এই বিশেষ ঘড়িটির বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি ঘড়ি সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত দুর্লভ।
নীল স্যাফায়ার দিয়ে তৈরি কেসের ভেতরে রয়েছে আকর্ষণীয় খুলি বা ‘স্কাল’ নকশা। ঘড়িটির আনুমানিক মূল্য ২২ কোটি রুপি। মার্কিন গায়ক ও র্যাপার পোস্ট ম্যালোনের সংগ্রহেও রিচার্ড মিলের দুর্লভ ঘড়ি রয়েছে।
২০২৬ সালে বাজারে আসা জ্যাকব অ্যান্ড কো. অপেরা ভান্তারা কেমো ঘড়িটির নকশার অনুপ্রেরণা এসেছে অনন্তের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগ ভান্তারা থেকে।
প্রায় ১৩.৭ কোটি রুপি দামের এই ঘড়িতে হাতে আঁকা অনন্ত আম্বানির একটি ক্ষুদ্র মূর্তিও রয়েছে। ঘড়িটি একেবারেই বিশেষভাবে তৈরি—অর্থাৎ এর মাত্র একটি কপি রয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অনন্তের ব্যক্তিগত আগ্রহের একটি বড় ক্ষেত্র হওয়ায় এই ঘড়িটি তার কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে।
জ্যাকব অ্যান্ড কো.-এর ‘অপেরা’ সিরিজের ঘড়ি ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছেও জনপ্রিয়।
অনন্ত আম্বানির গাড়ির সংগ্রহে অন্যতম আকর্ষণ রোলস-রয়েস ফ্যান্টম ৮ সিরিজ ২। বিশেষভাবে তৈরি এই বিলাসবহুল সেডান গাড়িটি আরাম, আভিজাত্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
গাড়িটির দাম প্রায় ১০ কোটি রুপি। বিশ্বজুড়ে তারকা ও রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যেও রোলস-রয়েস ফ্যান্টমের জনপ্রিয়তা রয়েছে। বলিউড তারকা শাহরুখ খানও এই মডেলের গাড়ির মালিকদের একজন।
নিরাপত্তার দিক থেকেও অনন্তের গাড়ির সংগ্রহ বেশ ব্যতিক্রমী। তার মালিকানায় রয়েছে ডার্টজের অত্যন্ত সুরক্ষিত সাঁজোয়া এসইউভি।
গাড়িটি সামরিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য পরিচিত। একই সঙ্গে এতে রয়েছে বিলাসবহুল নানা সুবিধা। অনেকটা ‘চাকার ওপর ট্যাংক’-এর মতো দেখতে এই গাড়ির দাম আনুমানিক ১৩ কোটি রুপি বা ১৬ লাখ মার্কিন ডলার।
বিলাসিতা ও নিরাপত্তার এই সমন্বয় বিশ্বের ধনকুবের এবং উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিদের কাছে আকর্ষণীয়। বিশেষ করে যাদের চলাচলের সময় বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন, তাদের মধ্যে এ ধরনের গাড়ির চাহিদা রয়েছে।
অনন্ত আম্বানির এসব সম্পদ শুধু দামের দিক থেকেই আলোচিত নয়; অনেকগুলোর নকশা, সীমিত উৎপাদন এবং ব্যক্তিগতভাবে কাস্টমাইজ করা বৈশিষ্ট্যও এগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্লভ বিলাসপণ্যের তালিকায় জায়গা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আউটলুক , ইন্ডিয়া ডটকম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন