প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রেমিট্যান্সের প্রবাহে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে, তবে দেশের অর্থনীতি এখনো প্রত্যাশিতভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এলসি (ঋণপত্র) সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যানেও এই চিত্র উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে, ভোগ্যপণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি এবং পেট্রোলিয়াম আমদানির পাশাপাশি ব্যাক-টু-ব্যাক এলসিও কমেছে। যা ভবিষ্যতে রফতানি আয় কমার সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও দেশের অর্থনীতি এখনো গতি ফিরে পায়নি। গত রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত এলসি খোলার পরিসংখ্যান জানাচ্ছে যে, সদ্য সম্পন্ন অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ১৪০ কোটি ডলারের এলসি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩ শতাংশ কম। একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
এই সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ১ হাজার ৮২১ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে শিল্পে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির জন্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৭১ কোটি ডলার। এলসি খোলার পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তিও ২.৫ শতাংশের বেশি কমেছে।
শিল্পে ব্যবহৃত মধ্যবর্তী পণ্য আমদানিতেও এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছে। গত মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে পেট্রোলিয়াম আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৫.৮ শতাংশ কম এবং এলসি নিষ্পত্তি ১৬.৩৪ শতাংশ কম হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির পরিসংখ্যান। এক বছরের মধ্যে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ৭.৯৩ শতাংশ। একই সময়ে, রফতানি আদেশের বিপরীতে নতুন এলসি খোলার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ার কারণে বেসরকারি খাতের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, যা এলসি খোলার পরিসংখ্যানেও প্রতিফলিত হচ্ছে। ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বহু দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর অর্থ হলো, বেসরকারি খাতের জন্য কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, মধ্যবর্তী পণ্য বা শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণের আমদানির সক্ষমতা কমে গেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে নতুন কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, যা এখনও অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায়, অর্থবছরের শুরু থেকে ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, দেশের মুদ্রানীতিকে নতুনভাবে সাজানো প্রয়োজন। বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাড়িয়ে অন্তত ১০ শতাংশ করা উচিত। এছাড়াও খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে নীতি প্রণয়ন এবং যেসব পণ্যে কর বা শুল্ক কমানো হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আমদানি বাড়াতে বাজারভিত্তিক নীতিতে আরও নমনীয়তা আনার প্রয়োজন।
শুধু শিল্প-কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি নয়, বরং ডাল, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের আমদানিতেও এলসি কমেছে। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ভোগ্যপণ্য আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ এবং এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ২.৭৫ শতাংশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন