প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের জন্য দেশটির মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬৩ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি ছিল ৪১ ডলার এবং রাশিয়ার ১৪ ডলার।
ফিলিস্তিনি মার্কিন লেখিকা সুজান আবুলহাওয়ারের পরিচালিত একটি সমীক্ষায় এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিপরি পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
ইসরায়েলের ইহুদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব করলে, দেশটির মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি প্রায় ৩৪০ ডলার দাঁড়ায়। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এটি প্রায় আট গুণ এবং রাশিয়ার তুলনায় ২৫ গুণ বেশি।
মোট অস্ত্র রপ্তানির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট অস্ত্র রপ্তানিতে ইসরায়েল সপ্তম স্থানে ছিল। এই তালিকায় ইসরায়েলের আগে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চীন ও ইতালি অবস্থান করছে।
তবে জনসংখ্যার অনুপাতে হিসাব করলে চিত্রটি ভিন্ন। ইসরায়েলের মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি নরওয়ের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি ছিল।
সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই অবস্থান কোনো এক বছরের ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। গত ২৫ বছরের প্রায় প্রতিটি বছরেই মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে ইসরায়েল বিশ্বের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অথবা শীর্ষ সারিতে অবস্থান করেছে।
১৯৬০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬৫ বছরের হিসাবেও মাথাপিছু গড় অস্ত্র রপ্তানিতে ইসরায়েল ছিল বিশ্বের শীর্ষে। এই সময়ে দেশটি প্রতিবছর গড়ে জনপ্রতি ৫৬ ডলার সমমূল্যের অস্ত্র রপ্তানি করেছে।
অর্থনীতির আকারের তুলনায়ও ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির অনুপাত অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। সিপরির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটির অস্ত্র রপ্তানি মোট জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ছিল। এই হার ফ্রান্সের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি।
তবে সিপরির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ড্রোন, গোলাবারুদ, ছোট অস্ত্র, সাইবার প্রযুক্তি, নজরদারি সরঞ্জাম, সেবা ও প্রশিক্ষণের মতো বেশ কিছু খাত অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সরকারের নিজস্ব বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েল ১৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি চুক্তির কথা জানিয়েছিল। এই পরিমাণ দেশটির জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
সমীক্ষা অনুযায়ী, অর্থনীতির অনুপাতে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় সাড়ে আট গুণ এবং ফ্রান্সের তুলনায় প্রায় নয় গুণ।
তথ্যগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বৃহৎ পরাশক্তিগুলো মোট হিসাবে অস্ত্র রপ্তানি করে বেশি অর্থ আয় করলেও জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারের অনুপাতে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি অন্যান্য তুলনীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।
সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন