প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর, আদালতের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশকে উপেক্ষা করে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন দেশটির পরাজিত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি-ওপা লককা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে তার একটি ব্যক্তিগত বিমানে অবতরণের দৃশ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্রাজিলের বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরপরই গোপনীয়তার মধ্যে দেশ ত্যাগ করেন ফ্লাভিও। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তার বিরুদ্ধে চলমান অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) ও দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার এবং দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করে তিনি প্রথমে আর্জেন্টিনা এবং পরে ইকুয়েডর হয়ে একটি ব্যক্তিগত চার্টার বিমানে মিয়ামিতে পৌঁছান।
এই ঘটনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। মিয়ামিতে পৌঁছানোর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান যে, তিনি ফ্লাভিও বোলসোনারো ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমোদন দেবেন। ট্রাম্প বোলসোনারো পরিবারকে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘সন্দেহজনক’ ও ‘ভয়ংকর’ বলে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও তাদের জন্য এন্ট্রি ভিসা ইস্যু করার ঘোষণা দেয়।
এদিকে ফ্লাভিও বোলসোনারোর এই নাটকীয় পলায়নকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রাজিলের পুনর্নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে লুলা বলেন, “তিনি (ফ্লাভিও) যদি নির্দোষ হতেন, তবে দেশেই থেকে আইনি লড়াই করতে পারতেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এভাবে পালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের ডানপন্থী বলয়ের শীর্ষ এই নেতার হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্র গমন এবং মার্কিন প্রশাসনের তাকে সাদরে গ্রহণ করার ঘটনা লাতিন আমেরিকার রাজনীতি ও ওয়াশিংটনের কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আর্জেন্টিনার মধ্য দিয়ে তার এই পলায়ন রুটটি দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন