প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সোমবার কিরগিজস্তানে এক ডজনের বেশি দেশের নেতা জড়ো হচ্ছেন, যার মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংও রয়েছেন। এই সম্মেলনটি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) দুই দিনব্যাপী আয়োজন, যেখানে আঞ্চলিক এই জোট পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাবের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে।
এ বছর এসসিওর ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হচ্ছে। এই জোটে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ এবং রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
রোববার বিশকেকে পৌঁছানোর পর, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং কিরগিজস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ককে ‘সোনালি সময়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার প্রভাবাধীন এই অঞ্চলে চীন সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করছে।
পুতিন এবং সি পূর্ববর্তী এসসিও সম্মেলনগুলোকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
এই সম্মেলনটি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর সাড়ে চার বছর এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
পুতিন, সি, পেজেশকিয়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আশা রয়েছে, যদিও তুরস্ক এসসিওর আনুষ্ঠানিক সদস্য নয়।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, পুতিন সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সিসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও ইরান অন্যতম। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই দুই দেশ সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনকে ইরানে অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
পুতিন এবং পেজেশকিয়ানের বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বিরল এক সফরে মস্কো গিয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর ধারণা, সফরে তিনি রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেন ও ইরান নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এসসিও ঐতিহাসিকভাবে অর্থনৈতিক বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে সংগঠনটি আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে এসসিওর ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশের পাশাপাশি ১৫টি ‘ডায়ালগ পার্টনার’ বা সংলাপ অংশীদার দেশ রয়েছে, যার মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া সংগঠনটির পর্যবেক্ষক দেশ।
এসসিওর প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই জোট অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো জোট নয়।’
তবে এসসিওর বিভিন্ন সম্মেলনে পুতিন ও সি বারবার পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন।
গত বছরের সম্মেলনে, পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ী করেছিলেন। অন্যদিকে, সি যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে ‘ভয় দেখানোর কর্মকাণ্ডের’ সমালোচনা করেছিলেন।
বিশকেকের এই সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন এসসিওর কয়েকটি সদস্য দেশ সরাসরি যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত। ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ককে কেন্দ্র করে চীন ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা চলছে।
চলতি মাসে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান চলাচল ও সমুদ্র পরিবহন খাতের ওপর এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়া।
ইরানের মিত্র দেশগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা চীন এর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, তারা নিজেদের স্বার্থ ‘দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।’
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরান নিয়মিতভাবে বলে আসছে, তারা অর্থনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, দেশটি ‘অর্থনৈতিক সংকটের’ মুখে রয়েছে।
ইরান ২০২৩ সালে এসসিওর পূর্ণ সদস্য হয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি এএফপিকে বলেছেন, তেহরান মনে করে, এই ধরনের জোটে সদস্যপদ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা সম্ভব হতে পারে।
তবে সংগঠনটির বাস্তব সুবিধা কতটা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ‘সংকটের সময় এসব জোট খুব কম ক্ষেত্রেই ইরানকে তার সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করেছে।’
এসসিও দাবি করে, বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২৫ শতাংশ এই জোটের আওতায় রয়েছে।
তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যও বিদ্যমান।
মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন