প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য মক্কার দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন ৬৮ বছর বয়সী তুর্কি অবসরপ্রাপ্ত ইমাম আবদুল্লাহ ওজকান। কিন্তু সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার পূর্বেই কনিয়া বিমানবন্দরে নামাজরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটে যখন তিনি সঙ্গী ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে বিদায়ী দোয়া পরিচালনা করছিলেন ইহরাম পরা অবস্থায়।
তুরস্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোরে কনিয়ার বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে। আবদুল্লাহ ওজকান ছিলেন কনিয়া প্রদেশের বেইশেহির জেলার একজন অবসরপ্রাপ্ত ইমাম এবং তিনি একটি হজ ও ওমরাহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।
তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৮০ জনের একটি দলের সঙ্গে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন আবদুল্লাহ ওজকান। রাত ২টার দিকে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দরে সমবেত হন তাঁরা। এ সময় তিনি যাত্রীদের নিয়ে বিদায়ী নামাজ ও দোয়া পরিচালনা করেন।
নামাজ শেষে কালিমায়ে শাহাদাত, তালবিয়া এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি দরুদ পাঠ করার সময় হঠাৎ তাঁর কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দরুদ পাঠের শেষ পর্যায়ে তিনি সামনের দিকে ঢলে পড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় আশপাশে থাকা ওমরাহযাত্রীরা দ্রুত তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। বিমানবন্দরের চিকিৎসাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও হৃদ্যন্ত্র সচল করার চেষ্টা (সিপিআর) চালান। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে সেলচুক বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল ফ্যাকাল্টি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
তুর্কি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
আবদুল্লাহ ওজকানের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর ধরে কাজ করেছেন ইসমাইল গুমুশ। ঘটনার সময় তিনিও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, মৃত্যুর আগে ওজকানের মধ্যে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। গুমুশ বলেন, নামাজ শেষ করার পর মহানবী সা.-এর প্রতি দরুদ পাঠ করার সময় তাঁর কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে আসে এবং এরপর তিনি সামনের দিকে পড়ে যান।
বেইশেহিরের মুফতি এনেস আকতাশ আবদুল্লাহ ওজকানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন।
শুক্রবার বেইশেহির জেলার চারশি মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে বেইশেহির কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরাম পরে যাত্রা শুরু করলেও আবদুল্লাহ ওজকান মক্কায় পৌঁছাতে পারেননি। বিদায়ী দোয়া পরিচালনার সময়েই থেমে গেল তাঁর জীবনের পথচলা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন