প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের চিলমারী থেকে রংপুরগামী রমনা কমিউটার ট্রেনের ৭০৩২ নম্বর কোচ থেকে বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনা ঘটে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী বালাবাড়ি এলাকায়।
তার চুরি যাওয়ার কারণে কোচটি রাতের বেলায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে পড়ে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়।
যাত্রীরা জানান, ট্রেনটি যখন উলিপুর রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করে, তখন হঠাৎ করে কোচের বাতি ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে তারা বিষয়টিকে যান্ত্রিক ত্রুটি মনে করেন। পরে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা তদন্ত করে জানতে পারেন, কোচের বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের তার চুরি হয়েছে। ফলে যাত্রীদের অন্ধকার ও গরমের মধ্যে যাত্রা করতে হয়।
ট্রেনে থাকা যাত্রী নিয়ামত আলী বলেন, "হঠাৎ করে পুরো কোচের বাতি ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়। পরে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা লোকজন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কোচের তার চুরি হয়েছে। এরপর অন্ধকার ও গরমের মধ্যেই আমাদের থাকতে হয়েছে।"
আরেক যাত্রী কফিল উদ্দিন বলেন, "হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে আমরা তার চুরির বিষয়টি জানতে পারি।"
স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুর থেকে রমনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রমনা কমিউটার ট্রেনের ৭০৩২ নম্বর কোচে এই ঘটনা ঘটে। উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে বালাবাড়ি এলাকায় কোচের বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের তার চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে কখন বা কিভাবে তারগুলো চুরি করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বে থাকা শিউলি বেগম বলেন, "বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু জানি না। ২৭ সেপ্টেম্বর রমনা কমিউটার ট্রেনে দায়িত্বে থাকা পরিচালক এ বিষয়ে বলতে পারবেন।"
উলিপুর স্টেশনের ইনচার্জ আবিদ বলেন, "আমি এখানে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। আমার মূল দায়িত্ব পীরগাছায়। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব না।"
২৭ সেপ্টেম্বর ট্রেনে দায়িত্বে থাকা পরিচালক অজিত রায় বলেন, "আমি সঠিকভাবেই দায়িত্ব পালন করে এসেছি। তবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ আমাকে বিষয়টি জানায়নি এবং কোনো অভিযোগও করেনি। পাওয়ার কার থেকে আমাকে জানানো না হলে আমি কিভাবে জানব? আমাদের ট্রেনে ইলেকট্রিশিয়ান থাকেন। এ ধরনের বিষয় সাধারণত তিনিই দেখেন।"
এদিকে কুড়িগ্রাম-রমনা সেকশনের রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়েও এর আগে প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ রয়েছে, রেললাইনে পাথর দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেসব পাথর বস্তায় করে এলাকার লোকজন বাড়িতে নিয়ে যান। রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার এমন অভিযোগের মধ্যেই এবার ট্রেনের কোচ থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটল।
রেলওয়ে নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কমান্ড্যান্ট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "রেলওয়ে নিরাপত্তায় লোকবল সংকট রয়েছে। এ কারণে ওই ট্রেনে আমরা নিরাপত্তাকর্মী দিতে পারিনি। সামনে নিয়োগ হলে লোকবল পাওয়া গেলে নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, "তার চুরির বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি।"
চলন্ত ট্রেনের কোচ থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যাত্রীদের দাবি, রেলওয়ের সম্পদ চুরি ও রেলপথের উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ট্রেনের নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রমনা কমিউটার বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়মিত কমিউটার ট্রেনগুলোর একটি। ট্রেনটি কুড়িগ্রামের চিলমারীর রমনা বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। এ পথে রমনা বাজার, বালাবাড়ী, উলিপুর, পাঁচপীর, পুরাতন কুড়িগ্রাম, কুড়িগ্রাম, রাজারহাট, তিস্তা জংশন ও কাউনিয়াসহ বিভিন্ন স্টেশন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন