প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি উয়েফার সাবেক সভাপতি এবং ফ্রান্সের ফুটবল কিংবদন্তি মিচেল প্লাতিনি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ফুটবলের নিয়মকানুনের রক্ষক হিসেবে ইনফান্তিনো যথেষ্ট কার্যকরী হতে পারেননি।
সম্প্রতি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেন। উয়েফাসহ একাধিক ফুটবল সংস্থার তীব্র বিরোধিতার মুখে ফিফা শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। তবে এই সময়ের মধ্যে ৫৬ বছর বয়সী সুইস-ইতালিয়ান এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ক্যানালকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্লাতিনি ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "অর্থনৈতিক বিষয় এক জিনিস। কিন্তু ইনফান্তিনো ব্যর্থ হয়েছেন, কারণ তিনি ফুটবলের নিয়মের একজন রক্ষক এবং সেগুলোকে সম্মান করেননি।"
প্লাতিনি বিশ্বকাপ চলাকালে হাইড্রেশন ব্রেক এবং ফাইনালে ৩০ মিনিটের হাফটাইম বিরতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "বিজ্ঞাপন বিরতি কোনো নিয়ম নয়। ফাইনালে ৩০ মিনিটের হাফটাইম বিরতিও নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আর সেই লাল কার্ড, সেটা ছিল আরও বাজে বিষয়।"
ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে প্লাতিনি আরও বলেন, "তিনি নিয়মের রক্ষক। কিন্তু যেহেতু তিনি সেগুলোকে পাত্তা দেন না, তাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।"
প্লাতিনি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অর্থ ও ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহের অভিযোগও তুলেছেন। তার ভাষায়, "আমি সবসময় জানতাম, তিনি অর্থ ও ক্ষমতা ভালোবাসতেন।"
ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফার শীর্ষ পদে যাওয়ার দৌড়ে ছিলেন প্লাতিনি। তবে ২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েন তিনি। ব্লাটারের কাছ থেকে প্লাতিনিকে অবৈধভাবে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই সময় উয়েফার সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান প্লাতিনি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
নিজের সেই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে প্লাতিনি বলেন, "তিনি আমাকে নামাননি, বরং লাভবান হয়েছেন। কিন্তু এখন তাকে নিয়ে সারা বিশ্বে অনেক তদন্ত চলছে। গুঞ্জন রয়েছে, কীভাবে তিনি নির্দিষ্ট বিষয়ে এত কিছু জানতেন। দেখা যাক এরপর কী হয়।"
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে চলমান বিতর্ক ও তদন্তের বিষয়ে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই এখন ফুটবল অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন