প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের তথ্য ও দর্শক পরিমাপকারী প্রতিষ্ঠান নিলসেন তাদের কার্যক্রমকে বৈশ্বিক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি, যা তাদের বৈশ্বিক কর্মী সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত কেন্দ্রটি নিলসেনের সবচেয়ে বড় কর্মকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
নিলসেনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অনিল গোয়েল মানিকন্ট্রোলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক উদ্ভাবন কার্যক্রমের প্রায় ৭৫ শতাংশই ভারত থেকে পরিচালিত হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের তথ্য বিশ্লেষণ স্বয়ংক্রিয় করা, খেলাধুলায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা পর্যবেক্ষণ এবং বিচ্ছিন্ন ও বহুমাধ্যমনির্ভর পরিবেশে দর্শক পরিমাপের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হচ্ছে।
গোয়েল বলেন, ‘আমরা ভারতে আমাদের কার্যক্রমকে কখনোই শুধু বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র (জিসিসি) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করিনি। শুরু থেকেই এটিকে বৈশ্বিক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল।’
ভারতে প্রচলিত জিসিসিতে কর্মীরা সাধারণত বিদেশে অবস্থিত সহকর্মীদের অধীনে কাজ করেন। কিন্তু নিলসেনের ভারতে থাকা দলগুলো নিজেদের পণ্য উন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বৈশ্বিক গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে। রাজস্বের দিক থেকে ভারত এখনও নিলসেনের ছোট বাজার হলেও এটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় শীর্ষ ১০টি বাজারের মধ্যে ভারত একটি।
বিজ্ঞাপন যাচাই ও ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডাবলভেরিফাই যুক্ত হওয়ার পর ভারতে নিলসেনের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গোয়েলের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মীবাহিনী দেশে উদ্ভাবন সম্প্রসারণের আরও সুযোগ তৈরি করছে।
বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণে এআইয়ের প্রভাব
নিলসেনের বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ কার্যক্রমে এআইয়ের ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৩০ থেকে ৪০টি বড় বাজারে টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র, সাময়িকী এবং আউটডোর মিডিয়ার বিজ্ঞাপনের ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে।
আগে তথ্য প্রক্রিয়াকরণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির পাশাপাশি কর্মীদের হাতে কাজ করতে হতো। প্রযুক্তি যেসব সমস্যা সমাধান করতে পারত না, সেগুলো সামলাতে এক হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত ছিলেন।
গোয়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, এআই ও বৃহৎ ভাষা মডেল ব্যবহারের ফলে যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন কাজের হার ৮০-৯০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৭-৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এখন হাতে কাজ করার জন্য কয়েক শ কর্মীই যথেষ্ট।
এ পরিবর্তনের ফলে ছোট বিজ্ঞাপনদাতা ও অপেক্ষাকৃত কম প্রচারমাধ্যমকেও নিলসেনের পরিমাপের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। গোয়েল বলেন, ‘আমার ব্যবস্থাগুলো যদি আরও বেশি কাজ সামলাতে পারে, তাহলে আমি ছোট ও কম প্রচলিত প্রচারমাধ্যমগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারব।’
খেলাধুলার অনুষ্ঠানেও ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা শনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। বেঙ্গালুরুতে নিলসেনের উদ্ভাবন দিবসে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জার্সিতে কোনো ব্র্যান্ডের উপস্থিতি শনাক্ত করতে আগে ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম ধরে পরীক্ষা করতে হতো। এআইয়ের সাহায্যে সেই কাজ এখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে করা সম্ভব হচ্ছে। বিজ্ঞাপনদাতারা যাতে খেলা চলাকালেই নিজেদের ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা বুঝতে পারেন, সে জন্য ব্যবস্থাটিকে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার কাজ চলছে।
বিভিন্ন মাধ্যমে একই দর্শক শনাক্ত
নিলসেনের মূল ব্যবসা দর্শক পরিমাপেও এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। দর্শকেরা এখন প্রচলিত টেলিভিশন, ইন্টারনেট-সংযুক্ত টিভি, স্ট্রিমিং সেবা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমিং ও মোবাইলের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করেন। ফলে একই ব্যক্তিকে একাধিক মাধ্যমে গণনা করা হচ্ছে কি না, তা নির্ধারণ করা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ সমস্যা সমাধানে নিলসেন নিজস্ব পরিচয় শনাক্তকরণ কাঠামো তৈরি করছে। গোয়েল জানান, এতে মেশিন লার্নিং মডেলের পাশাপাশি ডিভাইস আইডি, আইপি ঠিকানা ও ইমেইল ঠিকানার মতো বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন মাধ্যমে একই ব্যক্তি কনটেন্ট দেখছেন কি না, তা শনাক্ত করা হয়।
গোয়েলের তথ্য অনুযায়ী, নিলসেনের টেলিভিশন দর্শক পরিমাপ প্যানেলে এক লাখের বেশি পরিবার রয়েছে। কম্পিউটার ও মোবাইল পরিমাপের জন্য রয়েছে ১০ লাখের বেশি প্যানেল। পাশাপাশি নিজস্ব ও তৃতীয় পক্ষের সূত্র থেকে ৭ কোটির বেশি পরিবারের তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
এ ছাড়া মানুষ এআই প্ল্যাটফর্মে কত সময় ব্যয় করছেন এবং এসব প্রযুক্তি তাদের ভোক্তা-সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও গবেষণা করছে নিলসেন। চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও ক্লডের মতো প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি এআই এজেন্ট মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে শুরু করায় গণমাধ্যম ব্যবহারের প্রচলিত পরিমাপপদ্ধতিও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
গোয়েল বলেন, এআইয়ের তৈরি উত্তরে কোন ব্র্যান্ডের সুপারিশ কীভাবে আসছে, তা প্রভাবিত করার পরিবর্তে এসব প্ল্যাটফর্মে মানুষের সময় ব্যয় ও মনোযোগের অংশ পরিমাপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নিলসেন। বিষয়টি এখনো বিকাশের পর্যায়ে রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন