প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অন্তর্বর্তী সরকার গত দুই বছরে গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেশের স্থলভাগের গ্যাস অনুসন্ধান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের সমস্যার প্রতি সমব্যথী, কিন্তু এই সংকটটি বহু বছরের পুঞ্জীভূত। অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে দুই বছরের মতো সময় ছিল, কিন্তু তারা স্থলভাগে গ্যাস খোঁজার চেষ্টা করেনি।’
আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ভাগ্য ভালো, তাদের সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হয়নি।’ তিনি জানান, গত বছর গ্যাসের দাম যেখানে ১২ থেকে ১৪ ডলার ছিল, এ বছর তা বেড়ে ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।
গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের এফএসআরইউ যেটা নষ্ট হয়েছিল, সেটি ঠিক করা হয়েছে। তবে বর্তমানে গ্যাসের যে কার্গো রয়েছে, সেই কার্গো সরবরাহে কিছু সমস্যা হচ্ছে। যদি এটি সমাধান হয়, তবে সংকট অনেকটা ঠিক হয়ে যাবে।
এ সময় উপদেষ্টা গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, কারখানা টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন না দিয়ে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাস বাঁচাতে এবং গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ভোলার নতুন গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে দ্রুত গ্যাস যুক্ত করতে ৫০০ কোটি টাকা একটি জরুরি পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
দেশে সারের সংকট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারের সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, অতিরিক্ত সারও রক্ষিত আছে। কিছু কিছু স্থানে সার বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে, সরকার সেই অনিয়মগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
সরকার সার বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বলেও জানান ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তন কৃষক এবং জনগণের স্বার্থে। তবে নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।’
এ সার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, সারের ঘাটতি না হয় সেজন্য প্রচুর সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া এবং সৌদি আরব থেকে আরো ১ লাখ ১৫ হাজার টন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
দেশে ইউরিয়ার মজুদ ৪ দশমিক ৮২২ লাখ মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ দশমিক ৬৯, ডিএপি ৩ দশমিক ৬৮, এমওপি ১ দশমিক ৪৬ অর্থাৎ মোট ১৩ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন মজুদ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন