প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে প্রেমিকের বাড়িতে ২২ দিন ধরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ একবার কিশোরীকে উদ্ধার করে তার বাবার জিম্মায় দিলেও, বাড়ি ফেরার পথে তাকে আবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কিশোরীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তার বাবা।
কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট সকালে শ্যামনগর উপজেলার খোসালখালী গ্রামের ওই কিশোরী নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে, ওই রাতেই শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন তার বাবা।
জিডির সূত্র ধরে, ২২ আগস্ট রাতে আবু সাঈদের কাছ থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আবু সাঈদ ও তার লোকজন তাদের পথরোধ করে এবং জোর করে কিশোরীকে আবার নিয়ে যায়। কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেন, তিনি যখন মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে আবু সাঈদের বাড়িতে যান, তখন পরিবারের লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয় এবং মারধরের চেষ্টা করে। পরে থানায় গেলে কিশোরীকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি নিজেও হত্যার হুমকি পাওয়ার দাবি করেছেন।
পরিবারের অভিযোগ, আবু সাঈদের বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের গতিবিধি নজরদারি করা হচ্ছে। ফলে ভয়ে তারা সরাসরি সেখানে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে পারছেন না।
এ অবস্থায় কোনো উপায় না পেয়ে, কিশোরীকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়ে গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেন তার বাবা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ বলেন, "কিশোরীকে বিয়ে করে নিজ বাড়িতে সংসার করছি।" আবু সাঈদের বাবা নুর ইসলাম দাবি করেন, "আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।" তবে কিশোরীর বয়স ১৬ বছর হওয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় কিভাবে বিয়ে দেওয়া হলো—এমন প্রশ্ন করা হলে মোবাইল ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক নারী ক্ষুব্ধ হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম বলেন, "প্রথমবার খবর পাওয়ার পর পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে তার বাবার হাতে তুলে দিয়েছিল। পরবর্তীতে আবার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরিবার বা অন্য কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।" তবে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে পরিবারটি আতঙ্কে রয়েছে—এমন তথ্যের বিষয়ে ওসি বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন