প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর গণপরিবহনে যাত্রী ওঠানামার জন্য সড়কে যেখানে-সেখানে বাস থামানোর ঘটনা ঘটে। এক বাসকে আটকাতে অন্য বাসের চালকের রাস্তা অবরোধ এবং আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অংশ। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সরকার বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজধানীর ৯৮টি বাস রুটকে কমিয়ে ৩২টি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি রুটে একটি কোম্পানি থাকবে, যা সব বাস পরিচালনা করবে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের একটি পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব। তবে পুরো ব্যবস্থাটি গতিশীল হওয়ায় বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও আসতে পারে।
ডিটিসিএর দাবি, পূর্বে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে একক কম্পানির অধীনে বাস চালানোর উদ্যোগ সফল হয়নি। তবে এবার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি থাকায় উদ্যোগটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই দুটি রুটে একক কম্পানির অধীনে বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর একটি রুট আজিমপুর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বিমানবন্দর দিয়ে গাজীপুর পর্যন্ত। অন্য রুট হিসেবে মোহাম্মদপুর-চট্টগ্রাম রোড এবং মিরপুর-মাওয়া করিডর নিয়ে আলোচনা চলছে।
উদ্যোগ বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক সমিতিও কাজ শুরু করেছে। সরকারি নির্দেশনার পর পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাস শনাক্ত করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করতে রাজধানীর ২০টি পয়েন্টে কাজ চলছে। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মালিকরা।
ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম মন্তব্য করেছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। তবে এ জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই ব্যবসায়িক মডেল, মালিকদের লোকসান এড়ানোর নিশ্চয়তা এবং কার্যকর নজরদারি ছাড়া উদ্যোগটি সফল করা কঠিন।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক জানিয়েছেন, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট করিডরে লেগুনাসহ ছোট যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামানের মতে, মালিকদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে এ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন