প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের শিবচরে দুর্গাপূজামণ্ডপে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজামণ্ডপে সংঘটিত ঘটনার সার্বিক বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিজয় টেলিভিশনের শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি অপূর্ব চৌধুরী জয়। ও জাগরণী টেলিভিশনের সাংবাদিক রাজু আহমেদ সহ অনেকে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিবচরের অবস্থিত মাদারীপুর জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এবং প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২২ অক্টোবর রাতে শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের ঠাকুরবাজার এলাকার একটি দুর্গাপূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পারেন সাংবাদিকরা। জনস্বার্থে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে বিজয় টিভির প্রতিনিধি অপূর্ব চৌধুরী জয় তাঁর দুই সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পূজামণ্ডপের সভাপতি সুকুমার কর্মকারের ছেলে দুর্জয় কর্মকার তাঁদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তিন সাংবাদিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আঘাতপ্রাপ্ত করেন। তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। পরে আহত সাংবাদিকদের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শুধু সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগই নয়, সংশ্লিষ্ট দুর্গাপূজামণ্ডপে পূজার কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়।
দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ের পরও পূজামণ্ডপে কার্যক্রম চলছিল বলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া দেড় শতাধিক তরুণের উপস্থিতিতে ডিজে পার্টির আয়োজন এবং সেখানে মদ্যপানের অভিযোগও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
তদন্তে কোনো অনিয়ম বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদসম্মেলনে সাত দফা দাবি উত্থাপনও করেন তিনারা
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দাবি গুলো তুলে ধরা হয়।
দাবিগুলো হলো,১. গত ২২ অক্টোবর পাঁচ্চরের ঠাকুরবাজার এলাকার পূজামণ্ডপে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে।
২. সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে আঘাত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. বাদল কর্মকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপে নির্ধারিত সময়ের পর কার্যক্রম পরিচালনা, ডিজে পার্টির আয়োজন ও মদ্যপানের অভিযোগ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে।
৬. সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তাঁরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি, হুমকি কিংবা বাধা ছাড়াই স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
৭. পুরো ঘটনার তদন্ত নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে অপূর্ব চৌধুরী জয় বলেন, সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়ার মাধ্যম নয়। সত্য অনুসন্ধান, জনস্বার্থ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরাই সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলা, লাঞ্ছনা কিংবা হুমকির শিকার হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন