প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করেছেন দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) তদন্তকারী দল।
১২ অক্টোবর সোমবার ভোরে এই অভিযানটি তার শৈশবের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রের বিষয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর সূত্রে জানা যায়, তদন্তকারীরা ইলহান ওমরের প্রয়াত বাবার দ্বারা পূরণকৃত নথিপত্রগুলো খতিয়ে দেখছেন। নথিতে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং অভিবাসন জালিয়াতির সম্ভাব্য দিকগুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এদিকে, ইলহান ওমরের কার্যালয় এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। তারা এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। অভিযানের ঘটনাকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করার নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১২ অক্টোবর সোমবার একটি পোস্টে ইলহান ওমর উল্লেখ করেন, ‘আমি ভালো আছি’ এবং ‘আমাকে চুপ করানো যাবে না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তার দাবি, গত ১০ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করে আসছেন। সাম্প্রতিক অভিযানটি সেই রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের আরেকটি ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশটির বিচার বিভাগও এই তদন্তে সহায়তা করছে।
বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের কাছ থেকে পাওয়া তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে তদন্তকারীরা অভিযান পরিচালনা করেছেন। এটি একটি চলমান কেন্দ্রীয় ফৌজদারি তদন্তের অংশ।
তদন্ত সম্পর্কে অবগত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই তল্লাশির বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলেন। বিচার বিভাগের জনস্বার্থ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সততা-সংক্রান্ত বিভাগও বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ প্রদান করেছে।
অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার তদন্ত বিভাগ অভিবাসন নথি জালিয়াতি, পরিচয় জালিয়াতি এবং অভিবাসন-সুবিধা পেতে প্রতারণার মতো কেন্দ্রীয় অপরাধের তদন্ত করতে পারে। বহিষ্কারকেন্দ্রিক অভিযানের বাইরে, এ বিভাগের বিশেষ তদন্তকারীরা ফৌজদারি তদন্ত পরিচালনা এবং আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করেন।
ইলহান ওমরের বাড়িতে অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস, দলের হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাসের চেয়ারম্যান পিট আগুইলার।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অভিযানটিকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারকে অন্যায়ভাবে ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে এ ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
ইলহান ওমর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু। তবে সোমবারের অভিযানের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযানের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। ইলহান ওমরকে ‘ভয়াবহ ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি বিচার বিভাগের ওপর ছেড়ে দেন।
এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যান জানিয়েছিলেন, ইলহান ওমরকে ঘিরে একটি ফৌজদারি তদন্ত চলমান রয়েছে। সে সময় ওমর বলেছিলেন, তদন্তের বিষয়ে তাকে কেউ যোগাযোগ করেনি।
তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন