প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এশিয়ান গেমসের পূর্বে নিগার সুলতানা ই-মেইলের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তিনি ব্যাটিং এবং উইকেটকিপিংয়ে অধিক মনোযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
নিগার সুলতানার এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, কারণ এশিয়ান গেমস শুরুর মাত্র দুই দিন আগে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের কাছে কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট নয়। তবে বিসিবি জানিয়েছে, এশিয়ান গেমস শেষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার নিগারের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বুধবার বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, বোর্ড নিগারের ই-মেইল পেয়েছে। সেখানে তিনি টি-টোয়েন্টি থেকে সরে গিয়ে ওয়ানডেতে নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ব্যাটিং এবং উইকেটকিপিংয়ে আরো মনোযোগ দিতে চান।
রফিকুল ইসলাম বলেন, “সত্যি বলতে, টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে হঠাৎ কেন সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি জানি না। খেলোয়াড়টি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না এবং ব্যাটিং ও উইকেটকিপিংয়ে আরও মনোযোগ দিতে চায়। সে ৫০ ওভারের সংস্করণে থাকতে চায়, কিন্তু টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়াতে চায়—এ বিষয়ে সে ই-মেইল করেছে।”
এশিয়ান গেমসের ঠিক আগে নিগারের এই সিদ্ধান্তে বিসিবির এই কর্মকর্তার হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, “এশিয়ান গেমসের আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে আমি বিব্রত এবং গভীরভাবে হতাশ। কোনো সমস্যা থাকলে দল টুর্নামেন্ট থেকে ফেরার পর আমাকে জানাতে পারত। আমরা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্তে আসতে পারতাম।”
বর্তমানে নিগারকে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী নয় বিসিবি। রফিকুল ইসলাম জানান, তামিম ইকবালের সঙ্গে আলোচনা করে এশিয়ান গেমস শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন তাঁরা। তাঁর ভাষায়, “তামিম ও আমি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তারা এশিয়ান গেমস থেকে ফিরে এলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সামনে কী করা যায়, সেটি ঠিক করব।”
২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নিগার। তাঁর অধিনায়কত্বে একটি বড় সাফল্য আসে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ এক দশক পর বিশ্বকাপে প্রথম জয় পায়। ওই আসরে ব্যাট এবং গ্লাভস হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন নিগার—চার ইনিংসে ১০৪ রান করেন এবং উইকেটের পেছনে সাতটি ডিসমিসাল নেন।
তবে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর অধিনায়কত্বের সময়টি পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। ২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার, স্কটল্যান্ড-নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে মিশ্র ফল এবং বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে দুটি জয়—এসব কারণে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এশিয়ান গেমসের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ঠিক আগে নিগারের সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আপাতত বোর্ডের সিদ্ধান্ত, টুর্নামেন্ট শেষে নিগারের সঙ্গে বসে পরবর্তী পথ নির্ধারণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন