প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের মাধ্যমে তাঁর কাছে একটি স্বস্তি ও স্বাধীনতার অনুভূতি এসেছে। তিনি বলেছেন, ‘আমি আনন্দিত, আমি মুক্ত। শারীরিকভাবে আমি অনেক অসুস্থ। পদত্যাগপত্রে সেগুলো উল্লেখ করেছি। এখন স্বাধীনভাবে চলব। লেখালেখি করে সময় পার করব। আমি সব সময় চেয়েছি দেশে যেন সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি না হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কঠিন সময়েও দেশকে সাংবিধানিক শূন্যতা থেকে রক্ষা করেছি।’
গতকাল রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে টেলিফোনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী চরম সংকটময় সময়টি তিনি অকুতোভয় সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই সংকটকালে দেশে যেন কোনো ধরনের সাংবিধানিক শূন্যতা বা সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে আইনি মতামত গ্রহণ করেন।
আপিল বিভাগের স্পষ্ট নির্দেশনাবলি ও পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন। সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া আসলে সহজ কাজ ছিল না বলেও তিনি জানান। এমনকি তাঁর জীবননাশের মারাত্মক ঝুঁকি ও আশঙ্কার বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি সেদিন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত না হতো, তবে দেশ এক ভয়াবহ সাংবিধানিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারত।
আওয়ামী লীগের নির্বাচিত বিদায়ী রাষ্ট্রপতি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে একটি নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বলেন, দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন, দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটতে না দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেন জনরায়ে সরকার গঠিত হয়।
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি নানা ধরনের প্রবল মানসিক পীড়া ও চাপের সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এসব প্রতিকূলতা ও মানসিক কষ্ট সহ্য করেও তিনি ধৈর্য ধরে নির্বাচন আয়োজন পর্যন্ত দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
একই মেয়াদে তিনটি পৃথক সরকারকে শপথবাক্য পাঠ করানোর ঘটনা তিনি হাসতে হাসতে বলেন, এটি তাঁর জীবনের একটি বিরল অভিজ্ঞতা। ঘটনাক্রমে তিনি ইতিহাস সৃষ্টিকারী এমন এক ঘটনার অনন্য সাক্ষী হয়ে গেছেন। তাঁর তৈরী করা অন্তর্বর্তী সরকারটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথেষ্ট স্বীকৃতি পেয়েছিল, এবং তিনি প্রতিটি পদক্ষেপে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতির প্রতি কোনো বিশেষ বার্তা বা প্রত্যাশা আছে কি না জানতে চাইলে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুভ কামনা করে বলেন, যিনি নতুন রাষ্ট্রপতি হবেন, তিনি অবশ্যই তাঁর চেয়ে যোগ্য ও দক্ষ হবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন