প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি পরিশোধের প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ডিজিটাল অটোমেশন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যবিপ্রবিতেই প্রথমবারের মতো এ ধরনের পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে একপে (eKpay) পেমেন্ট গেটওয়ের উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর মন্তব্য করেন, "শিক্ষার্থীদের সময় ও ভোগান্তি কমাতে যবিপ্রবি শুরু থেকেই প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।" তিনি আরও বলেন, দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি ও পেমেন্ট সেবা সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আর ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, "শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচানো এবং তাদের ক্যাম্পাসজীবনকে আরও সহজ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।" তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর ফলে শিক্ষার্থীদের আর ব্যাংক বা নির্দিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। ঘরে বসেই সহজে বিভিন্ন ফি পরিশোধ করা যাবে। প্রশাসনিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল অটোমেশন পেমেন্ট পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।" তিনি জানান, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত ও নিরাপদ হবে। ভাউচার ও চালানসহ প্রচলিত কাগজপত্রের ব্যবহার কমে আসবে। শিক্ষার্থীরা ফি পরিশোধের পর লেনদেনের তথ্য দ্রুত হালনাগাদ করতে পারবেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এ ব্যবস্থার আওতায় সেমিস্টার ফি, কোর্স রেজিস্ট্রেশন ফি, মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট, মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন সার্টিফিকেট ও টেস্টিমনিয়াল ফি পরিশোধ করা যাবে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় রেজিস্ট্রেশনের বিলম্ব ফি, অনার্স, মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের ভর্তি ফি, গ্রেডশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট ও সাময়িক সনদ উত্তোলন ফিও এ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া হলের বিভিন্ন ফি, লাইব্রেরি-সংক্রান্ত ফি এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ফিও একপে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। শিক্ষার্থীরা বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ঘরে বসে ফি জমা দিতে পারবেন।
পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্টে ই-রসিদ জমা হবে। একই সঙ্গে লেনদেনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে হালনাগাদ হবে। এতে ফি আদায়ের প্রক্রিয়ায় সময় কমার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের দক্ষতা ও তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন