প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উজান থেকে আসা পানির চাপ এবং ফারাক্কা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ার ফলে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রায় দুই মিটার বেড়ে গেছে। এ কারণে নদীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীতে পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপৎসীমা অতিক্রম করতে হলে পানি ১৮ দশমিক ৫ মিটার পৌঁছাতে হবে।
রাজশাহীতে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে মাঝচর, আষাড়িয়াদহ, খিদিপুরসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন নিচু স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের বসতি, কৃষিজমি এবং নদীনির্ভর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে।
নগরীর খরবোনা এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন জানান, "কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীর পানির উচ্চতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিশেষ করে গত তিন দিনে দ্রুত পানি বাড়ায় নদীর পড়ের খরবোনা, পঞ্চবটি, শ্রীরামপুর এলাকা সহ চরাঞ্চলের অনেক জায়গা পানিতে ডুবে গেছে।"
পদ্মার পানি এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে রাজশাহী শহর ও জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে, পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজশাহীর নদীতীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের মানুষ ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, "নদী পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলে রাজশাহীর নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আরও বাড়বে।"
এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ফারাক্কার সব গেট খোলার খবর প্রকাশিত হয়। উজানে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই গেটগুলো খোলা হয়েছে।
ফারাক্কা ব্যারেজ গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত। এর ১০৯টি গেটের মধ্যে ১০৮টি নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং একটি নিচু ভূমির পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের পর গঙ্গার এই প্রবাহই পদ্মা নামে পরিচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন