প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইরানের সাধারণ জনগণ ভীষণভাবে ভুগছে। দেশটির বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ৭৭.২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৪২ সালের পর, অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরানের সাম্প্রতিক তথ্য এই ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে।
খাদ্যদ্রব্যের বাজারে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মুদ্রাস্ফীতি ১১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে রাজধানী তেহরানসহ সারাদেশের বাজারে পণ্যের দাম প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে। তেহরানের বাস্তান বাজারের এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, "এক বছর আগে এক কেজি চালের দাম ছিল ১৮ লাখ রিয়াল, যা এখন ৫০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়েছে। ভোজ্যতেলের দাম ৭ লাখ রিয়াল থেকে বেড়ে ৩০ লাখ রিয়াল হয়েছে।"
সাধারণ মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ঘটছে: মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর খাবার টেবিল থেকে লাল মাংস একপ্রকার অদৃশ্য হয়ে গেছে। মুরগির মাংসের ব্যবহার কমে গেছে এবং অনেক পরিবার এখন একটি করে ডিম গুনে কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থায়ী আয়ের ওপর আঘাত আসছে: নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা চরম দারিদ্র্যের সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রবীণ নাগরিকদের ভাষ্যমতে, প্রাপ্ত ভাতা দিয়ে সংসারের খরচের এক-তৃতীয়াংশও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীদের মন্দা: বেচাকেনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কেনাবেচা না থাকলেও দোকান খোলা রেখে দেউলিয়া হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করছেন অনেকে।
অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণসমূহ
ইরানের চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড মাইনসের প্রধান আরমান খালেঘি এই সংকটকে একটি "পাঁচমুখী অর্থনৈতিক দুর্যোগ" হিসেবে উল্লেখ করেছেন:
ভর্তুকি প্রত্যাহার: সরকারের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যে দেওয়া পছন্দের মুদ্রা সাবসিডি বা ভর্তুকি তুলে নেওয়া।
ভৌগোলিক ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: বছরের শুরুর দিকের আন্দোলন ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া।
সামরিক সংঘাত: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও চরম অনিশ্চয়তা।
নৌ-অবরোধ: সমুদ্রপথে অবরোধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি বিলম্বিত হওয়া ও খরচ বৃদ্ধি পাওয়া।
মজুদদারি প্রবণতা: যুদ্ধ আতঙ্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় মজুদদারির ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়া।
বছরের শুরুতে শ্রমিকদের মজুরি ও ভাতা বৃদ্ধি করা হলেও, রকেট গতিতে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কার্যত শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন