প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতীয় ক্রিকেটার ঈশান কিষাণ যখন "বিসমিল্লাহ" বলেন, তখন তাকে সাধারণত রসিকতা এবং সাংস্কৃতিক উদারতার অংশ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু যখন একজন মুসলিম আইপিএস কর্মকর্তা "আসসালামু আলাইকুম" বলেন, তখন তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সম্প্রতি আফগানিস্তান দল সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ঈশান কিষাণ হেসে উত্তর দিতে শুরু করেন— "প্রথমেই, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"। এই হালকা মেজাজের মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভারতীয় নেটিজেনরা একে অত্যন্ত মিষ্টি ও আনন্দদায়ক মন্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেন।
তবে ঈশানের প্রতি এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গের আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
বুশরা বানো সম্প্রতি নিজের সিভিল সার্ভিস জয়ের যাত্রা নিয়ে তৈরি একটি ভিডিওতে "আসসালামু আলাইকুম", "ইনশাআল্লাহ" এবং "জাজাকাল্লাহ"-র মতো ইসলামি ধর্মীয় অভিবাদন ব্যবহার করেছিলেন। এরপর একটি উগ্র ডানপন্থী সংগঠন তার এই আচরণের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি ছিল, বুশরা বানো একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কেন তিনি "জয় হিন্দ" বা "বন্দে মাতরম"-এর মতো শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেননি, সেই প্রশ্নও তোলা হয়। এর পরপরই ওই নারী কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।
যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বদলিকে "জনস্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ" হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং ধর্মীয় অভিবাদনের কারণে এই বদলি কি না তা নিশ্চিত করেনি। তবে অনলাইনে তীব্র সমালোচনা এবং অভিযোগের পরপরই এই বদলির ঘটনাটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
একজন হিন্দু ক্রিকেটার যখন "বিসমিল্লাহ" উচ্চারণ করেন, তখন তাকে উদারতা হিসেবে দেখা হয়; অথচ একজন মুসলিম আইপিএস কর্মকর্তা যখন "আসসালামু আলাইকুম" বলেন, তখন তার ধর্মনিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
উভয়ের পেশা ও অবস্থান ভিন্ন হলেও, দুই ঘটনায় সাধারণ হিন্দুত্ববাদীদের দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। মূল সমস্যাটি কি আসলে ধর্মীয় শব্দ প্রয়োগের, নাকি কে শব্দটি ব্যবহার করছেন তার ওপর নির্ভর করছে এই গ্রহণযোগ্যতা?
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন