প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সউদী আরব হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রধান শহর, তেল স্থাপনাগুলি এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ৫ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কার্যকর করা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তানকে নিয়ে যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ, যেখানে তুরস্কও যুক্ত হতে যাচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রায় এক স্কোয়াড্রন (১৬টি) 'জেএফ-১৭ থান্ডার' যুদ্ধবিমান সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলীয় ধারানের কিং আব্দুলআজিজ বিমানঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি সংস্করণে উন্নত এইএসএ রাডার এবং পিএল-১৫ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা তেল স্থাপনাগুলি ও আকাশসীমার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি পাকিস্তান তাদের সর্বাধুনিক চীনানির্দেশিত 'এইচকিউ-৯' সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং একাধিক ড্রোন স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে। সউদী আরবে ইতোমধ্যে বিদ্যমান আমেরিকার 'পেট্রিয়ট' এবং 'থাড' ব্যবস্থার সঙ্গে এই এইচকিউ-৯ মিসাইল যুক্ত হয়ে বহুমাত্রিক ও স্তরীভূত আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করবে।
প্রতিরক্ষা সহায়তা বাড়াতে প্রস্তুত আঙ্কারাও। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, তারা মূলত কারিগরি সহায়তা, ড্রোন বিরোধী ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম নিয়ে রিয়াদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ড্রোন ধ্বংসে তুরস্কের 'করকুত' স্মার্ট গান সিস্টেম এবং 'হিসার' সিরিজের মিসাইল ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তুর্কি বিমান বা সেনা মোতায়েনের বিষয়টি দেশটির পার্লামেন্টের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
সউদী প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এই পদক্ষেপকে সামূহিক প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যদিও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট করেছেন যে মূল লড়াই সউদী আরবই করবে। বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর মূল ভূমিকা হবে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ ও আকাশসীমা রক্ষা করা।
তবে এই বহুজাতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি ও কমান্ড কাঠামোর মধ্যে সঠিক সমন্বয় ঘটানো। আমেরিকান পেট্রিয়ট এবং চীনা এইচকিউ-৯ কিংবা তুর্কি প্রযুক্তির সমন্বিত পরিচালনা একটি অত্যন্ত জটিল কাজ।
তা সত্ত্বেও, লোহিত সাগর সংলগ্ন ইস্ট-ওয়েস্ট ওয়েল পাইপলাইন, গুরুত্বপূর্ণ শহর ও ধর্মীয় স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ও তুরস্কের এই সমর্থন সউদী আরবের সার্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন