প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শান্ত এক বিকেলে ৬৫ বছর বয়সি জনপ্রিয় নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইনস নিজের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই একটি দ্রুতগামী সাদা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি তার ওপর তুলে দেয় এক চালক। হামলাটি যেন নিশ্চিত হয়, সেই জন্য চালক গাড়িটি ঘুরিয়ে এনে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁকে আরেকটি গাড়ির সাথে পিষে ফেলে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের কাছে ওয়াঙ্গারাতা শহরের সেই ভয়াবহ দৃশ্যে উপস্থিত পথচারীরা স্তব্ধ হয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে এক সাহসী নাপিত ছুটে এসে চালকের হাত থেকে ছুরি কেড়ে নেন। সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে ৪৩ বছর বয়সি ওই হামলাকারীকে ঘেরাও করে ফেলে, পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে। চিকিৎসকেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলেনকে মেলবোর্নের হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর আফসোসের বিষয় হলো, তার একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে। অপর পা-টি বাঁচানোর জন্য এখন চিকিৎসকেরা আপ্রাণ লড়াই চালাচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ নিশ্চিত করেছেন, এটি কোনো নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে ঘটনার নেপথ্য কারণ জানতে পুলিশ ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিশেষ দল যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।
হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা হেলেন হেইনস ছিলেন সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন মানুষ। তিনি কেবল রাজনীতিকই নন, একজন সাবেক নার্স, গবেষক ও তিন সন্তানের মা। গরুর খামারে বেড়ে ওঠা এই লড়াকু নারী ২০১৯ সাল থেকে নিজের যোগ্যতা ও ভালোবাসায় পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একজন সেবিকা ও নেত্রীর প্রতি এমন নির্মমতায় থমকে গেছে পুরো অস্ট্রেলিয়া। দেশজুড়ে এখন শুধুই তার প্রাণ ফিরে পাওয়ার আকুল প্রার্থনা।
সূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন