প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্শাল আইল্যান্ডস দাবি করেছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিচালিত বিধ্বংসী পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার জন্য জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে, প্রেসিডেন্ট হিলডা হেইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জাতিসংঘের এই ক্ষমা চাওয়া দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হিলডা হেইনে বলেন, ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে মার্শাল আইল্যান্ডসে অন্তত ৬৭টি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা পরিচালিত হয়। এই ভয়াবহ পরীক্ষার ফলে দেশটির পরিবেশ, মানবস্বাস্থ্য এবং মৌলিক মানবাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট হেইনে আরও বলেন, “প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের পরিবারগুলোকে নিজ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হতে হয়েছে, তারা মারাত্মক ব্যাধি ও তেজস্ক্রিয় দূষণের শিকার হয়েছে এবং অপূরণীয় ক্ষতি ভোগ করেছে। এসবই আমাদের মৌলিক মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হানার শামিল।”
পারমাণবিক পরীক্ষার এই কালো অধ্যায় থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মার্শাল আইল্যান্ডসের প্রশাসনিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা অতীতে ঘটা অন্যায়ের প্রতিফলন ঘটাবে। একইসাথে এটি মার্শাল আইল্যান্ডের নিপীড়িত জনগণের মানসিক ক্ষত নিরাময় এবং বিচারের পথকে সুগম করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জাতিসংঘ যাতে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে এবং বৈশ্বিক মানবাধিকার সুরক্ষায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে—সেটি নিশ্চিত করা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো স্বার্থ নেই।”
বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরে এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে পরিচালিত পরমাণু পরীক্ষার বিষাক্ত প্রভাব আজ অবধি সেখানকার জনজীবন ও স্বাস্থ্যে নেতিবাচক ছাপ রেখে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচারের ভূমিকা নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন