প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে মাসব্যাপী একটি বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর জন্য নগরীর আটটি এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম তদারকির জন্য চসিকের ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগামী এক মাস ধরে ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন। তারা কোথাও ডেঙ্গুর লার্ভা দেখতে পেলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রয়োজনে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হবে।
বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নগরীর সেন্ট প্ল্যাসিডস স্কুলের সামনে থেকে এ উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দ্বারা চিহ্নিত নগরীর আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্বের সাথে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে মশার প্রজননস্থল চিনহিত এবং ধ্বংস করাসহ লার্ভা নিধন এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।
নগরীর ২, ৩, ১৭, ১৮, ১৯, ৩২, ৩৪ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শতাধিক কর্মীকে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য বিটিআই ব্যবহার করছে চসিক গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে। এর ফলস্বরূপ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তিনি আরো জানান, গত বছর এই সময়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৮০০-এরও বেশি। চলতি বছরে তা কমে ৫৫০ থেকে ৫৮০ জনের মধ্যে রয়েছে। গত বছর একই সময়ে ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু ঘটেছিল, কিন্তু চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চলবে বলে তিনি জানান।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য মশক নিধনের পাশাপাশি নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের জন্য নালা-নর্দমা, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্রাশ প্রোগ্রাম শেষে পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গুবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এসময় চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, গোলাম বাকি মাসুদসহ রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এমএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন