প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল জেলা জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে, তিনি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, নগরীর সিএন্ডবি রোড এলাকায় তার নামে এবং বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিএন্ডবি রোডে ‘বন্ধন’ নামের একটি ভবনে সরকারি শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একই এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবনে তার নামে বা বেনামে আরও চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সব মিলিয়ে ছয়টি ফ্ল্যাট ও জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় একজনের কথা থেকে জানা গেছে, সিএন্ডবি রোডের লাইফ কেয়ার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পাশে নির্মাণাধীন ওই ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভবনটিতে প্রায় ২০ জন শেয়ার থাকার কথা রয়েছে, তবে মূল দায়িত্বে অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রয়েছেন। এদিকে, জমিটির ‘ক’ তফসিলভুক্ত হওয়ায় অভিযোগের ভিত্তিতে মালিকানা ও কাগজপত্রের সত্যতা জানতে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, সিটি করপোরেশনের বিধিমালা অনুযায়ী ছয় ফুট প্রশস্ত গলির পাশে কীভাবে ১০ তলা ভবনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর ফলে তদন্তের দাবি উঠেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের দপ্তর জানিয়েছে, মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময় এ নিয়ে ৬/৭ ফুট সড়কের পাশে সর্বোচ্চ তিন তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তর অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবন সম্পর্কে অবগত নন। তবুও বেআইনি নির্মাণ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম সরকারী কলেজের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক দলের বায়তুল মাল সম্পাদক হওয়ায় তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকারি চাকরিতে থেকে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আইন অনুযায়ী কি সঙ্গত, তা দেখা উচিত।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৭৯-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা রাজনৈতিক দল বা এর অঙ্গ সংগঠনের সদস্য হতে পারে না। ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা থাকলে সরকারি আইন অনুযায়ী তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।
অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও বরিশাল জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহমুদুন্নবীর নির্বাচন পরিচালনায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগগুলোর ব্যাপারে সরকারি দপ্তর ও ভূমি কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন স্থানীয়রা।
অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম অভিযোগগুলো সম্পর্কে বলেছেন, 'গত ডিসেম্বর মাসে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিসিসি থেকে ৩ ইউনিটের ৯ তলা ভবনের প্ল্যান পাশ করিয়েছি।' জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক পদে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত, তবে কোনো পদে নেই।' ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাহামুদুন্নবীর নির্বাচনী কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন সম্পর্কে তিনি বলেন, 'নির্বাচনী সকল কর্মকান্ডে ছিলাম, তবে সরকারি চাকরি করার কারণে দলীয় পদে নেই।' তিনি আরো জানান, নির্মাণাধীন ভবনে তার ভাগ্নের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন